সাড়ে সাত ঘণ্টা পর বিকাল সাড়ে ৩টায় অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে এলেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডাক্তার জুলফিকার হায়দার। পথ আগলে দাঁড়িয়ে থাকা কাজী সালাহউদ্দিনের মেয়ে কাজী সারাজিন, তার জার্মান স্বামী এলেক্স, ছেলে কাজী শাফিলকে জানিয়ে গেলেন অপারেশন সফল হয়েছে। কোনো সমস্যা নেই। পেছনের রুমে অপেক্ষমাণ সালাহউদ্দিনের স্ত্রী ইমা সালাহউদ্দিন, সালাহউদ্দিনের বোন শম্পা, বাফুফের সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণসহ অপেক্ষমাণ সবাইকে জানানো হলো আব্বার অপারেশন শেষ হয়েছে এবং ভালোভাবে শেষ হয়েছে।
ইমা সালাহউদ্দিন নিজে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন। অপারেশন কেমন হয়েছে সেটা ডাক্তারের মুখ থেকে নিজ কানে শুনতে পারলে ভালো লাগবে তার। কাজী সারাজিন গিয়ে ডা. জুলফিকার হায়দারের রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে মায়ের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করতে তিনি চেয়ার থেকে উঠে আসেন। ডা. জুলফিকার হায়দার ইমা সালাহউদ্দিনকে জানালেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ অপারেশন ভালো হয়েছে।’ কথাটা শুনেই আবেগে চোখ ভেজালেন সালাহউদ্দিনের স্ত্রী। এক দুই লাইনে কথা শেষ করেই ডা. জুলফিকার হায়দার চেম্বারে অন্য রোগীর দিকে মন দিলেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত সালাহউদ্দিন তখনো অপারশেন থিয়েটারে। জানিয়ে দেওয়া হলো আধাঘণ্টা পর তাকে বের করা হবে। নিয়ে যাওয়া হবে আইসিইউতে। চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ লেগে থাকলেও সারা দিন পর বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলেন সালাহউদ্দিনের অপেক্ষায় থাকা তার পরিবার।
ডাক্তাররা সালাহউদ্দিনের বাইপাস করেছেন। ব্লক ধরা পড়েছে। সংকটাপন্ন অবস্থায় চলে যাচ্ছিলেন তিনি। মাত্রই অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়েছেন তাই রোগীর অপারেশন নিয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো ব্যাখ্যা দেননি ডাক্তাররা। পরে সব জানিয়ে দেওয়া হয় রোগীর পরিবারকে। তার আগে নিশ্চিত হওয়া গেল না তিনটা না চারটা ব্লক। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের কথা হচ্ছে, ‘অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে, এটাই সবচেয়ে খুশির ব্যাপার। প্রেসিডেন্ট স্যারের জ্ঞান ফিরলে আরও ভালো লাগবে সবার।’
গতকাল সকাল পৌনে ৮টায় স্ট্রেচারে করে এভারকেয়ার হাসপাতালের দুজন নার্স সালাহউদ্দিনকে তার কেবিন থেকে নামিয়ে আনেন। অপেরাশেন থিয়েটারে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সালাহউদ্দিনকে একঝলক দেখা গেল। বুঝা গেল না, ঘুমে নাকি তাকিয়ে আছেন। স্ট্রেচার ঘিরে তার মেয়ে সারাজিন। অশ্রুসিক্ত মাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন ছেলে শাফিল। লন্ডন থেকে এসেছেন ডাক্তারি পড়ুয়া সারাজিনের ছেলে জিদান। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে পরিবারের সবাই সালাহউদ্দিনকে ঘিরে ছিলেন। তারপরই ভেতরে নিয়ে যায়। একঘণ্টা অপেক্ষার পর আবার সবাইকে ভেতরে ডেকে বলা হলো, ‘এখন অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হবে। আপনারা ভেতরে গিয়ে আরেক বার রোগীকে দেখে আসতে পারেন। বি পজেটিভ গ্রুপের চার ব্যাগ রক্ত আগেই রাখা ছিল, তারপরও আরও দুজন ডোনার সাতসকালে হাজির করা হয়।
জানা গেল, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরফ থেকে সালাহউদ্দিনের খবর নেওয়া হয়। হাসপাতালে কথা বলা হয়েছে। বাফুফের সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ জানিয়েছেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং এএফসির সভাপতিও বাফুফে সভাপতি সালাহউদ্দিনের অপারেশনের খবর জানতে চেয়েছেন এবং তারা রোগমুক্তি কামনা করে ঢাকায় খুদে বার্তা পাঠিয়েছেন। সন্ধ্যায় কিরণ জানিয়েছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ সব ঠিক আছে। সালাহউদ্দিন ভাইকে আইসিইউতে আনা হয়েছে। সবাই যেন উনার জন্য দোয়া করেন।’