জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক ইউপি সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের বাঘাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সাগরদিঘী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ভিক্টর ব্যানার্জী। ঘটনার পরপরই আহতদের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর (ঈগল প্রতীক) সমর্থকরা হলেন লক্ষিন্দর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিরুল ইসলাম, তার বড় ভাই হামিদুল, রুহুল আমিন ও জহিরুল ইসলাম। অন্যদিকে নৌকার আহত সমর্থকরা হলেন লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আহমেদ।
টাঙ্গাইল-৩ আসনে এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ডা. কামরুল হাসান খান। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ভাতাভোগীদের ডেকে এনে আমানুর রহমান খানের ঈগল প্রতীকে ভোট না দিলে এ সুবিধা বন্ধ করা হবে বলে হুমকি দেন লক্ষীন্দর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আমিরুল ইসলাম। এ খবর শোনার পর একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান প্রতিপক্ষকে গালিগালাজ করেন। এ সময় আমিরুল ইসলাম ও তার কয়েকজন ভাই নৌকা সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। সেই জেরেই মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে দুপক্ষ।
ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের শাসানো ও গালিগালাজের অভিযোগ মিথ্যা। নির্বাচন উপলক্ষে খিচুড়ি খাওয়ার আয়োজন করেছিল স্থানীয় সমর্থকরা। এ সময় হঠাৎ স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা এসে আমাদের অফিস ভাঙচুর করে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতিকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।