চা-বাগান, বনাঞ্চল ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানখ্যাত মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলা। উপজেলায় তিনটি বনবিটসহ রয়েছে রাজকান্দি বনরেঞ্জ। গাছ ও বাঁশমহাল সমৃদ্ধ উপজেলায় বনাঞ্চল ঘেঁষে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে ৩২টি করাতকল রয়েছে। বাড়ির গাছ দেখিয়ে করাতকলগুলোতে প্রতিনিয়ত চা-বাগান ও বনের গাছ চেরানো হচ্ছে। ফলে চায়ের টিলা ও বনের গাছ ফাঁকা হচ্ছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রতিবেশ-পরিবেশ।
বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন রয়েছে। এরমধ্যে ২২টি চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, রাজকান্দি বনরেঞ্জের অধীন কামারছড়া, আদমপুর ও কুরমা বনবিট রয়েছে। রাজকান্দি বনে এখনো কিছুটা গভীরতা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় প্রতি রাতেই গাছ ও বাঁশ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। চা-বাগানের টিলাভূমি থেকেও গাছ চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব গাছের বৃহত্ অংশই করাতকলগুলোতে নিয়ে চেরানো হচ্ছে। উপজেলায় ৩২টি করাতকলের মধ্যে ১৭টি করাতকলই অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে কয়েকটি করাতকল ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রজাতির গাছের খণ্ডাংশ নিয়ে ট্রলি, পিকআপ, ডায়না ও ট্রাক্টর যোগে করাতকলগুলোতে স্তূপীকৃত হচ্ছে গাছের টুকরো। প্রতিটি করাতকলের চারপাশে সারি সারি স্তূপ জমানো হচ্ছে। এরমধ্যে ব্যবসায়ীরাও কেনাবেচা করছেন। পর্যায়ক্রমে গাছের খণ্ডাংশ চেরানো হচ্ছে। বনাঞ্চল, চা-বাগান বা বাড়ির গাছ যাচাইবাছাইয়েও কোনো ব্যবস্থা নেই।
শমশেরনগর সতিঝির গ্রামের ভেতর একটি করাতকল রয়েছে। সেখানেও বন ও চা-বাগান থেকে আসা গর্জন, কড়ই ও আকাশিয়া গাছের খণ্ডাংশের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মিলটি অবৈধ থাকলেও মিলের মালিক মামলা দিয়ে করাতকল পরিচালনা করছেন।
করাতকল মালিকরা বলছেন, বাড়িঘরের গাছগাছালিই বেশি আসছে। সেগুলোই চেরানো হচ্ছে। বন ও চা-বাগানের গাছ মাঝেমধ্যে হয়তো থাকতে পারে। তবে যারা চেরানোর জন্য নিয়ে আসেন, সবাই বাড়ির গাছ বলে চিরিয়ে নিচ্ছেন।
পরিবেশকর্মী আব্দুল আহাদ ও মহসিন পারভেজ বলেন, করাতকলগুলোতে যে-হারে বন ও চা-বাগানের গাছ চেরানো হচ্ছে, তাতে ফাঁকা হচ্ছে প্রাকৃতিক বন ও চায়ের টিলাভূমি। এতে একদিকে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থ বিলুপ্ত হচ্ছে অন্যদিকে চা-বাগানে ছায়াবৃক্ষের অভাবে উত্পাদনও হ্রাস পাচ্ছে।
এব্যাপারে রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘করাতকলগুলোতে আমাদের নজরদারি আছে। বাড়িঘরের গাছগাছালিই চেরানো হচ্ছে। বনের বা চা-বাগানের গাছের খবর পেলেই আমরা অভিযান পরিচালনা করি। তাছাড়া কয়েকটি করাতকল মালিকরা মামলা দিয়ে মিল চালিয়ে যাচ্ছে।’