বিদায়ী বছর ‘২০২৩-এ বিশ্বের কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতারা ঢাকা সফরে এসেছেন। নির্বাচন ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সফর করেন এই নেতারা। তাদের সফরের মধ্য দিয়ে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে এসেছে সুসম্পর্কের বার্তাও।
১০ জানুয়ারি: আফ্রিকা যাওয়ার পথে ঢাকায় দুই ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
৪ ফেব্রুয়ারি: দুইদিনব্যাপী ঢাকা সফরে আসেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিন বিন ইসমাইল। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পায়।
২৭ ফেব্রুয়ারি: তিনদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসেন আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো ক্যাফিয়েরো। এ সময় ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস উদ্বোধন এবং দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি সই হয়। তার এ সফর শেষ হয় ১ মার্চ।
১১ মে: মরিশাসের প্রেসিডেন্ট পৃথ্বীরাজ সিং রূপণ ষষ্ঠ ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা সফরে আসেন। কনফারেন্সের পাশাপাশি এ সময় বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন তিনি। এর আগে মরিশাসের কোনো প্রেসিডেন্ট ঢাকা সফর করেননি।
একই দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফরে আসেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন।
২৬-২৭ জুন: এ বছরের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল ঢাকায় ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা’র সফর। ঝটিকা এই সফরে তিনি কেন এলেন আর সরকারের সঙ্গে কী আলোচনা করলেন-তা নিয়ে এদেশের রাজনীতিকরা কম আলোচনা করেননি। বিশ্লেষকদের মনেও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
ঢাকা সফর শেষে জ্যাক মা নেপাল সফরে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সফর করে পাকিস্তানে যান আলিবাবার এই প্রতিষ্ঠাতা। এ সময় তার সফর সঙ্গী ছিলেন চীনা, ড্যানিশ ও মার্কিনসহ সাতজন।
১১ জুলাই: এদিন ঢাকা আসেন বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া, পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) উপ-সহকারী প্রশাসক অঞ্জলী কৌর। সফরকালে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তাগিদ দেন তারা।
৭ সেপ্টেম্বর: দুইদিনের সফরে ঢাকা আসেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে কোণঠাসা রাশিয়া পুরনো বন্ধু বাংলাদেশকে দুই দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্কের বার্তা দেয়। এর আগে রাশিয়ার কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর করেননি।
১০ সেপ্টেম্বর: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঢাকা সফরে আসেন। এতে ঢাকা-প্যারিসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইট ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। উল্লেখ্য, ৩ দশক আগে ১৯৯০ সালে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট মিত্রান্দে ঢাকা সফর করেন।
১৬ অক্টোবর: ঢাকা সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আক্তার।
৬ ডিসেম্বর: সৌদি বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী খালিদ আল ফালিহর নেতৃত্বে ৪০ সদস্যদের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে আসে। পাশাপাশি সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী তাওফিক আল-রাবিয়াও এ সফরে ছিলেন। সফরে সৌদি আরবের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল অপারেটর আরএসজিটিআই ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি সই হয়।
২২ ডিসেম্বর: এদিন কয়েক ঘণ্টার জন্য যাত্রাবিরতি করেন ভুটানের ‘কুইন মাদার’ দরজি ওয়ানমগমো ওয়াংচুকান্দ ও তার রাজকীয় প্রতিনিধি দল। নিরাপত্তার স্বার্থে তার গন্তব্য সম্পর্কে জানানো হয়নি। ঢাকায় যাত্রাবিরতিকালে ট্রানজিটের সব ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।