জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর-২ আসনের ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আমরা দেশের জন্য, মানুষের জন্য সংগ্রাম করে আসছি, লুটপাটের জন্য নয়। বৈষম্যের বিরুদ্ধে, লুটপাটতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের রাজনীতি। এই উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নের জন্য আমি শেখ হাসিনার দেওয়া নৌকা মার্কায় প্রার্থী হয়েছি। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনি সরকার গঠন করবেন, অতীতে যেমন তার সহকর্মী হিসাবে কাজ করেছি আগামীতেও সংসদে তাকে সমর্থন ও সহযোগিতা করবো।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়ার নদমূলা গ্রামে নৌকা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ভান্ডারিয়াসহ এই অঞ্চলের প্রতি আল্লাহর রহমত রয়েছে। তাই তুলনামূলক অন্য এলাকাকে আমরা ভালো ও উন্নত পরিবেশে বসবাস করি। ৮০’র দশকের শুরুতে আমি আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে এলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল এরশাদ আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং তার সরকারকে সহযোগিতার আহবান জানালেন। ৮৪ সালে আমি এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগ দেই এবং ৮৬ সালে ভান্ডারিয়া-কাউখালী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। এরপর থেকে আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে আজ পর্যন্ত ৩৮ বছর ধরে সংসদে যেমন আছি। তেমনি প্রায় ১৮ বছর পাঁচবার মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি।
তিনি বলেন, ৮৬ সাল থেকে দেশের জন্য মানুষের জন্য যেমন নিজেকে নিয়োজিত রাখার সৌভাগ্য হয়েছে তেমনি ভান্ডারিয়াসহ অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে বাসিন্দাদের ভাগ্য উন্নয়নে তৎপর ছিলাম। এ সময় সারাদেশে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করার সুযোগ আল্লাহ আমাকে যেমন দিয়েছেন তেমনি ভান্ডারিয়াসহ এ আঞ্চলে মানুষের জন্য যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা বিস্তার, বেড়িবাধ নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা প্রভৃতি ক্ষেত্রে কাঙ্খিত উন্নয়ন আমাদের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে। এই নদমূলা এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত কঁচানদীর ভাঙ্গন থেকে এলাকবাসীকে রক্ষার জন্য ৬০০ কোটি টাকার বেড়িবাধ নির্মাণের কাজ আমাদের হাতেই আল্লাহর রহমতে সম্পন্নের পথে।
জেপি চেয়ারম্যান বলেন, কখনো কখনো কিছু লুটেরা দুর্নীতি করেছে, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে কালো টাকার মালিক হয়েছে। এই টাকা দিয়ে তারা আবার নির্বাচনী মাঠে নেমে কোটি কোটি টাকা বিছিয়ে ভোটে জিততে চায়। আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে এসব দুর্নীতিবাজদের ইনশাআল্লাহ পরাজিত করা হবে। অতীতে আমি অন্য নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছি। এবার শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা মার্কা দিয়েছেন তার সহযোগী হওয়ার জন্য।
শেখ হাসিনা আবারও সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আমাকে ডেকেছেন তাকে সহযোগিতার জন্য। অতীতে তার সঙ্গে ১০ বছর মন্ত্রীত্ব করেছি। তিনি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন একজন বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে। দেশের প্রয়োজনে, মানুষের প্রয়োজনে, এলাকার প্রয়োজনে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করবো। এ জন্য এলাকার মানুষের সমর্থন প্রয়োজন। পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে পশ্চিমাদের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি। একইভাবে এলাকায় যারা বৈষম্য সৃষ্টি করতে চায়, দুর্নীতি করে অর্থ লুটপাট করেছে তাদেরকে আমরা পরাজিত করবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতীক নৌকাকে বিজয়ী করবো।
এই উঠান বৈঠকে প্রবীণ সমাজকর্মী খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ভান্ডারিয়ার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খান মো. এনায়েত করিম। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপি’র ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, জেপি’র উপজেলা সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কাজী রোকনুজ্জামান বশির, সাবেক ছাত্রনেতা কাজী ওয়াহেদুজ্জামান বাচ্চু, স্থানীয় ইউপি সদস্য সাখাওয়াত হোসেন সিপাই প্রমুখ। রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু অনুরূপ একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নে কাপালির হাটে বক্তব্য রাখেন। স্থানীয় সমাজকর্মী প্রশান্ত মজুমদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ভান্ডারিয়ার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খান মো. এনায়েত করিম, জাতীয় পার্টি-জেপি’র ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, জেপি’র উপজেলা সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সাবেক ছাত্রনেতা কাজী ওয়াহেদুজ্জামান বাচ্চু, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন জেপি’র সভাপতি রেজা আহমেদ দুলাল, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত মন্ডল, সমাজকর্মী ভগিরত রায় প্রমুখ।