নাটক সিনেমা মঞ্চ সরব ছিল বছর জুড়েই

পুরো বছর জুড়েই সংস্কৃতির জগত্ সরব ছিল। মঞ্চ, সংগীত, উত্সব ও চলচ্চিত্র সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই ওটিটি যুগে এসে তলানিতে ঠেকে যাওয়া চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বেশকিছু ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র পেয়েছে এবার ঢাকার হলগুলো।

অন্যদিকে, নতুন ও আলোচিত নাটকে মুখর ছিল মঞ্চ। শিল্পকলা একাডেমি বছর জুড়েই বিভিন্ন উত্সব প্রদর্শনী আয়োজনের পাশাপশি তাদের ‘গণজাগরণের সংস্কৃতি উত্সব’ সারা দেশের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এদিকে, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও রফিকুন নবী, শাহাবুদ্দিন আহমেদের জন্মদিনকে ঘিরে চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন শিল্পরসিকদের মাঝে উত্সাহের জন্ম দিয়েছে।

একঘেয়ে গল্প থেকে সরে এসে পরিচালকরা নতুন নতুন সিনেমা নিয়ে আসায় দর্শকও হলমুখী হয়েছে। হিমেল আশরাফের পরিচালনায় শাকিব খানের প্রিয়তমা, রায়হান রাফীর সুড়ঙ্গ, চয়নিকা চৌধুরীর প্রহেলিকা, দীপংকর দীপনের জ্বীন, ফখরুল আরেফিন খানের জেকে ১৯৭১, খিজির হায়াত খানের ওরা ৭ জন, হূদি হকের ১৯৭১, সেই সব দিন মানুষের আগ্রহ কেড়েছে। তবে, ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মুজিব’ সিনেমার প্রতি সারা দেশের মানুষের মাঝেই আগ্রহ ছিল। এছাড়া, ওটিটি প্লাটফর্মেও নতুন নতুন ওয়েব সিরিজ ও চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। পাশাপাশি  নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া আজমেরি হক বাঁধন অভিনীত ‘খুফিয়া’ চলচ্চিত্র নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

এসব চলচ্চিত্রের বেশকিছু সংগীতও মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। কোক স্টুডিও বাংলা বাংলা গানে ভিন্নমাত্রা নিয়ে এসেছে । এই বছর কোক স্টুডিও বাংলার দ্বিতীয় মৌসুমে ‘মুড়ির টিন’, ‘বনবিবি’, ‘দেওরা’, ‘কথা কইয়ো না’, ‘দাঁড়ালে দুয়ারে’ ও ‘দিলারাম’ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বাংলাদেশের মঞ্চনাটক সব সময় খুব সমসাময়িক ও প্রাণবন্ত। বিশেষ করে সমসাময়িক বিষয় ও মানুষের মনের প্রশ্নগুলোকে মঞ্চনাটকগুলোই ঠিকমতো দর্শকের সামনে তুলে আনেন। সেদিক দিয়ে এ বছর তার ব্যত্যয় হয়নি। এ বছর মঞ্চে নতুন নাটক এসেছে ৩৪টি, নাটকের উত্সব আয়োজন হয়েছি ১২টি, নতুন নাটকের দল হয়েছে পাঁচটি। আর সব মিলিয়ে বছরে নাটকের প্রদর্শনী হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০।

আলোচিত নাটকের মধ্যে ছিল—অচলায়তন (প্রাচ্যনাট), লাভ লেটার্স (থিয়েটার), বীরাঙ্গনা (স্পর্ধা), হার্মাসিস ক্লিওপেট্রা (অনুস্বর), সিদ্ধার্থ (আরশীনগর), তীর্থযাত্রী (নাট্যকেন্দ্র), ম্যাকবেথ (স্বপ্নদল, মূকনাট্য), অন্তরে বাহিরে চিত্রাঙ্গদা (নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়), তাজমহলের টেন্ডার (কণ্ঠশীলন), ভগবান পালিয়ে গেছে (বাতিঘর), সখী রঙ্গমালা (বটতলা), দ্বিতীয় বিজয়া (ম্যাড থেটার) প্রভৃতি।

এ বছর ঢাকার মঞ্চের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল  ফেরদৌসী মজুমদার ও রামেন্দু মজুমদারকে একসঙ্গে মঞ্চে দেখা। যুক্তরাষ্ট্রের নাট্যকার এ আর গার্নির পুলিত্জার পুরস্কারের জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত নাটক ‘লাভ লেটারস’ নিয়ে এসেছিলেন তারা। আবদুস সেলিমের বাংলা রূপান্তর করা নাটকটি প্রযোজনা করেছে নাট্যদল থিয়েটার।

মঞ্চ সরব থাকলেও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের দুটি ভাগে ভাগ হয়ে আন্দোলনের ঘটনা ছিল লজ্জাজনক। একদিকে, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাত্ ও সাংগঠনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে কামাল বায়েজীদ ও অর্থ সম্পাদক রফিক উল্লাহ্ সেলিমকে অব্যাহতি দেয় গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। অন্যদিকে, ফেডারেশনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির ‘স্বেচ্ছাচারিতা, অগঠনতান্ত্রিক ও অবৈধ কার্যক্রমের’ অভিযোগ এনে ‘সাধারণ নাট্যকর্মীবৃন্দ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মও গঠন করেন কয়েকটি নাট্যদলের সদস্যরা।