বাংলাদেশে ফুড প্রসেসিং খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সাইয়েদ মোহাম্মদ আলমেহিরি শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সাথে তার শিল্প মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে সাক্ষাতকালে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশে ফুড প্রসেসিং খাতের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখাতে বিনিয়োগ করতে চায়।
এ সময় শিল্পমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানের ফুড প্রসেসিং ল্যাব ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনে বিনিয়োগ করার বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ীদের এখাতেও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের ফুড প্রসেসিং খাতের আন্তর্জাতিক মান অর্জনে আরব আমিরাতের একটি সার্টিফিকেশন প্রতিষ্ঠান এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এতে আরব আমিরাত জনগণের কাছে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে। নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য প্রচুর জমি রয়েছে। দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারীরা প্রাইভেট ও জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে যেকোন খাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পাদনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: ‘প্রভাবশালী যারা থাকবে, আমরা নিশ্চয়ই তাকেও বের করব’
আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্কেন্ডেনেভিয়ান দেশগুলোতে জাহাজ রপ্তানি করছে। আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারীরা জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগ করার অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। চলতি বছরের শেষের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইকোনমিক মিনিস্টার বাংলাদেশ সফরের পূর্বে সম্ভাবনাময় খাতসমূহে বিনিয়োগের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ও শিল্পমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইকোনমিক মিনিস্টারের বাংলাদেশ সফরের সময় এ সকল খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।
সাক্ষাতকালে স্টিল, সিমেন্ট, গ্যাস, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সুগন্ধি, গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, মধু ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানানো হয়। এছাড়া আরব আমিরাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করে সেই জনশক্তিকে আরব আমিরাতে বিভিন্ন কাজে নিয়োগ প্রদানের আহবান জানানো হয়।
ইত্তেফাক/বিএএফ