রাজশাহীর বাঘায় ২২ দিন পূর্বে উদ্ধার হওয়া এক নারীর লাশের পরিচয় নিশ্চিত করতে অবশেষে কবর থেকে মৃতদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমানের উপস্থিতিতে উপজেলার বেড়েরবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামের কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে বাঘা থানা পুলিশ এ লাশ উত্তোলন করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত মাসের ১০ তারিখ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের চক বাউসা গ্রামের একটি ভূট্টা ক্ষেত থেকে মুখে মবিল মাখানো অজ্ঞাত (৪৫) নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ খবর শুনে থানায় ছুটে আসেন আড়ানী পৌর এলাকার পাঁচপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মোমিন ও তার পরিবার। তারা দাবি করেন, এই মৃতদেহ মোমিনের স্ত্রী গোলাপির। সেই মর্মে তারা থানায় একটি মামলা করেন। ফলে পুলিশ ময়না তদন্ত শেষে লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
এরপর পরিবারের লোকজন বেড়েরবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামের কেন্দ্রীয় গোরস্থান ওই লাশ দাফন সম্পন্ন করেন।
এদিকে লাশ দাফনের একদিন পর গোলাপি মোবাইল ফোনে বাঘা থানার ওসিকে জানান তিনি বেঁচে আছেন। ঘটনার একসপ্তাহ পুর্বে তিনি স্বামীর ওপর রাগ করে বোনের বাড়ি অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ আড়ানী রেলস্টেশান থেকে তাকে উদ্ধার করেন।
এর কিছুক্ষণ পর পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের সুরুজ মিয়া ওসিকে মুঠফোনে জানান তার স্ত্রী দোলেনা বেগমকে (৩৮) এক সপ্তাহ ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি থানায় এসে লাশের পরিহিত পোশাক এবং ছবি দেখে দাবি করেন এটি তার স্ত্রীর লাশ। পরক্ষণে তিনি বাঘা থানায় সন্দেহমূলক তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় পুলিশ উজ্জল নামে একজন ভ্যানচালককে গ্রেফতার করে। এতে সত্য উদঘাটন হয় এবং প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসে।
আরও পড়ুন: বিরলে বাসের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহাসিন আলী জানান, লাশের মুখ মবিল দিয়ে ঝলসানোর কারণে প্রথমপক্ষ লাশ সনাক্ত করতে ভুল করে। কিন্তু দ্বিতীয় জনের অভিযোগ এবং গ্রেফতারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি মর্মে লাশের প্রকৃত পরিচয় মেলে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা রজু হওয়ায় আদালত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। সেই মর্মে মঙ্গলবার দুপুরে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়।
ইত্তেফাক/নূহু