প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ভোট দেবেন কীভাবে

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশগম্যতার অভাব, পরিবহন সমস্যা, নিরাপত্তার অভাব—এমন নানা কারণে প্রতিবন্ধী, গর্ভবতী নারী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা ভোট দেওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন। তারা মনে করেন কীভাবে তারা ভোট দেবেন, সে নিয়ে কারোই যেন মাথাব্যথা নেই। সমাজসেবা অধিদপ্তরের হিসেবে দেশে ৩০ লাখের অধিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে। এর মধ্যে ভোটারের সংখ্যা কম না। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে দেশে ১ কোটি ৪০ লাখ প্রবীণ রয়েছেন। এত বিশালসংখ্যক ভোটারের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন। তারা বলছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুয়ায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবীণ ও গর্ভবতী নারীদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে মূল সমস্যা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটারদের সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।          

নাজমা বেগম পপি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ২০০১ সালে তিনি প্রথম ভোটার হন। ২০০৮ সালে তিনি প্রথম ও শেষ ভোট দেন। এরপর তার পক্ষে আর ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যাতায়াত প্রধান সমস্যা। ভোটকেন্দ্রে অনেক দূরে হেঁটে যেতে হয়। আমি এক জনের সহায়তায় ভোট দেব, সে আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে, তার পছন্দের প্রার্থীকেও ভোট দিতে পারে। তাই ভোট দেওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন তিনি।’

আসকোনার পারুল পাঁচ মাসের গর্ভবতী। সন্তানের জন্য কোনো রকম ঝুঁকি নিয়ে ভোট দিতে যাবেন না। অনেক দূর হাঁটতে হয়। তিনি বলেন, ‘ভোট তো আবার আসবে, কিন্তু ভোটের জন্য আমার সন্তানের কোনো ক্ষতি হলে তা তো পূরণ হবে না।’ ৮০ বছর বয়সি আব্দুর হাইয়ের ছেলে সফিকুর রহমান মনে করেন, যাতায়াত সমস্যা, অপেক্ষা, সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে আবার নেমে আসার মতো ঝুঁকি এড়াতে ভোট না দেওয়াই ভালো।

আশরাফুন নাহার মিষ্টি নিজে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী নারীদের উন্নয়নে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কর্ণধার। তিনি বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও গর্ভবতী নারীর জন্য অনেক পথ হেঁটে ভোট দিতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। আমি জীবনে চারটি ভোট  পেয়েছি,  তার মধ্যে প্রথম বার আমার জন্য ভোটকেন্দ্র নিচে নামানোর ব্যবস্থা করা হয়। দ্বিতীয় বার আমাকে বলা হয় সবার সামনে ভোট দিতে। তাই ভোট না দিয়ে চলে আসি।’ মিষ্টি বলেন, ইভিএম পদ্ধতি সঠিক বা ত্রুটিমুক্ত হলে তা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ। তবে যাতায়াতের বিষয়টিও আমলে নিতে হবে।

আ্যাাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা বলেন, ‘আগের অভিজ্ঞতা দিয়ে বলছি, ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত ভোটারদের নিয়ে যাওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ, যা নির্বাচন কমিশন আমলে নিচ্ছে না। কোন এলাকায় কত প্রতিবন্ধী, প্রবীণ কিংবা গর্ভবতী মা আছেন, তা আগে জেনে তাদের ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এই বিশাল জনগোষ্ঠী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।’

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব  অশোক কুমার দেবনাথ ইত্তেফাককে বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুয়ায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবীণ ও গর্ভবতী নারীদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। সহযোগী নিয়ে এরা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হলেই প্রিজাইডিং অফিসার তার ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করবে, তাদের লাইনে অপেক্ষা করতে হবে না। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহযোগী না থাকলে প্রিজাইডিং অফিসার তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে দেবেন। আমাদের প্রধান সমস্যা কোন এলাকায় কত এমন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটার আছে, সে তথ্য আমাদের কাছে নেই। থাকলে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করত।’