পুলিশের সুনাম কম নয়, কিন্তু তাদের দুর্নামই সবচেয়ে বেশি প্রচারিত হচ্ছে। একশ্রেণির ঘুষখোর পুলিশের কারণে সামগ্রিকভাবে পুলিশ প্রশাসনের ভালো কাজগুলো আলোচনায় আসছে না। প্রকৃতপক্ষে পুলিশের মধ্যে ঘুষখোরের সংখ্যা খুবই কম।
মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে প্রথম পুলিশই রক্ত দিয়েছে। করোনার সময় জীবন বাজি রেখে মৃত ব্যক্তিদের দাফন করেছে। এছাড়া যাদের রক্তের প্রয়োজন, তাদের রক্ত দিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের এত ভালো ভালো কাজ একশ্রেণির ঘুষখোর পুলিশের কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ঐ অসৎ পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না, সর্বদা টাকাপয়সার আশায় বসে থাকেন। দেশের অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা, মামলা তদন্ত, সালিশ করা—এগুলো পুলিশের নিত্যদিনের কাজ। কিন্তু এই কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, মানুষ থানায় এসে ঠিকমতো সেবা পাচ্ছে কি না, তার কোনো সঠিক মনিটরিং হয় না। এগুলো দেখার জন্য রেঞ্জের ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার আছেন, সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রয়েছেন। থানার ভেতরে ওসি ছাড়াও ওসি তদন্ত আছেন। অর্থাৎ, রেঞ্জ ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একাধিক বডি রয়েছেন। এই বডি সঠিকভাবে তাদের কাজ না করায় ঘুষ ছাড়া থানায় কাজ হয় না, মানুষকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়—এই বিষয়গুলো মানুষের মুখে মুখে।
অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, বর্তমানে পুলিশে এসপির পদ থেকে রেঞ্জের ডিআইজি, থানার ওসি হতে, পদোন্নতি পেতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ৫০ লাখ থেকে কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়। এ কারণে যারা টাকা দিয়ে পদোন্নতি পান, রেঞ্জে যান, জেলায় ও থানায় যান, তারা তো সেই টাকা তোলার জন্য বসে থাকেন। সঠিক আইন বাস্তবায়নে তারা তেমন মনোযোগী হন না। এই কাজ করে পুলিশের একটি সিন্ডিকেট। প্রতিদিনই ইত্তেফাক অফিসে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে আসেন অনেকে। সাংবাদিকেরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত সেই মধুর ক্যান্টিনের কর্ণধার শহিদ মধুদার জায়গা বেদখল হয়ে গিয়েছিল। এরপর ঐ থানায় একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এসেছেন, চলেও গেছেন, কিন্তু কেউ জমির দখল ফিরিয়ে দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত এক ওসি এসে জায়গা ফিরিয়ে দিয়ে ব্যবস্থা নেন এবং এই মহৎ কাজের জন্য ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। জানা গেছে, জনি ব্যাপারীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ এখন আবার এক জনের ২০ শতাংশ জায়গা দখল করে দোকানপাট করে ফেলেছে। জায়গার মালিকপক্ষের একজন ইত্তেফাক অফিসে এসে বলেন, এই জনির বিরুদ্ধে ১১টা মামলা রয়েছে। তিনি থানার তালিকাভুক্ত আসামি। থানায় তার ছবিও ঝোলানো রয়েছে। তাকে নাকি পুলিশ খুঁজে পায় না। অথচ তিনি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সবার প্রশ্ন, জনির এত ক্ষমতার উত্স কী?
যার ২০ শতাংশ জমি দখল করেছেন জনি, ক্ষতিগ্রস্ত সেই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা অতি সম্প্রতি ইত্তেফাকের অফিসে এসে বলেন, স্থানীয় কিছু নেতা জনি ব্যাপারীকে প্রশ্রয় দেন। এ কারণে দিনে দিনে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি মাদক ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করেন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললেই চলে নির্যাতন। তার নির্যাতনে অসহায় এলাকাবাসী। সারা দেশে জনি ব্যাপারীদের মতো সন্ত্রাসীদের কারণে কত অসহায় পরিবার প্রতিদিনই নির্যাতিত হচ্ছে। থানায় গিয়েও কোন বিচার পাচ্ছেন না। প্রতিদিনই ইত্তেফাকে এমন অভিযোগ আসছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বলেন, জমির মালিক তারা। কিন্তু দখল করে আছেন জনি ব্যাপারী। ঐ জমির ধারেকাছে যেতে দেন না। জমির মালিকানা দাবি করলে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন জনি। বিষয়টি সমাধানের জন্য এলাকার নেতাসহ অনেকের কাছে গেছেন তারা, কিন্তু কোনো প্রতিকার মেলেনি। শেষ ভরসা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি ইত্তেফাক কার্যালয়ে আসে। তারা বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটাই তারা চান। তারা সুষ্ঠু বিচার চান।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, ‘১১ মামলার আসামি ঘুরে বেড়াবে—এটা হতে পারে না। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’