দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৭৮২ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯০টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা শাখার তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সবচেয়ে বেশি এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনে ৭৪৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪১৮ কেন্দ্রকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এবার রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ১২৮ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এই উপজেলায় ৮১ ভোটকেন্দ্র বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের ১১৭ কেন্দ্রের ৭১টি, সোনারগাঁ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ১৩১ কেন্দ্রের ৪৩টিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ১৪৯টি কেন্দ্রকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। এই আসনে ২৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এই আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এবারও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়েছে। সদর ও বন্দর থানা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৭৫টি। এর মধ্যে ৪৯টি কেন্দ্র বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সোহান সরকার বলেন, ‘নির্বাচনে সব কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। তবে ভৌগোলিক অবস্থানসহ বিশেষ কিছু কারণে ৩৯০টি কেন্দ্রকে আলাদাভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আমাদের বিশেষ নজরদারি থাকবে।’ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে পুলিশ। কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত জেলা পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক জানান, ৭ জানুয়ারি দেশব্যাপী সংসদীয় আসনগুলোতে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ চলবে। সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ। এবার জেলার পাঁচটি আসনে মোট ২২ লাখ ৫৫ হাজার ৬০ জন তালিকাভুক্ত ভোটার রয়েছেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ ১৩টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ৩৪ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয় জন রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।