যেমন দেখলাম তেজগাঁও-কারওয়ান বাজারের ভোট

সারাদেশে হামলা-সংঘর্ষ-গুলি, কম ভোটার উপস্থিতিসহ নানান অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রোববার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮টায় এবং শেষ হয় বিকাল ৪টায়।

সরেজমিনে তেজগাঁও মহিলা কলেজ নারী কেন্দ্রে দেখা যায়, কেন্দ্রের সামনে নেতা-কর্মীদের জটলা। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে নারীরা খোশগল্পে মগ্ন। এ সময় কথা হয় ভোটারদের সিরিয়াল নম্বর প্রদানকারী নৌকা প্রতীকের এক কর্মীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ভোট খুব ভালো হচ্ছে। দলে দলে নারী ভোটাররা আসছেন। ভোট জমে গেছে।

2

কিন্তু দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে কেন্দ্রে ঢুকে দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্য। কেন্দ্রের বাইরে ভিড় থাকলেও ভেতরে একেবারে ফাঁকা। শুনসান নীরবতা। এ ছাড়া ফটোসেশনে ব্যস্ত নিরাপত্তাকর্মীরা। তাদের কেউ একজন পকেট থেকে চিরুনী বের করে চুলের বিন্যাস ঠিক করেন। তখন আমিও তাদের একটা ছবি উঠানোর চেষ্টা করি। তখন একজন নিরাপত্তাকর্মী আমাকে উকুন খোঁজার চোখ নিয়ে বলেন, আপনি কে? আপনার কার্ড কই? তখন আমি আলগোছে কার্ড দেখালে বলেন, ঠিক আছে। ভেতরে যান!

কিন্তু ভোট কক্ষের ভেতরে উঁকি মেরে দেখা যায়, নির্বাচনগ্রহণ কর্মীরা মাছি মারার ভঙ্গিতে ঝিমুচ্ছেন। কোনো রুমেই ভোটার নেই। কয়েকজন নারীকে এদিক ওদিক যেতে দেখা যায়। নৌকা প্রতীকের নেতাকর্মীরা পুলিশকে কী যেন বলছেন। আমি ফটাফট কয়েকটা ছবি তুলে বের হয়ে পড়ি।

3

আমার নতুন গন্তব্য ছিল তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র। এখানে কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁও এলাকার পুরুষ ভোটাররা ভোট দিতে এসেছেন। কেন্দ্রে ঢোকার আগেই দেখা গেল নেতা-কর্মীদের ঢল। তাদের ঠেলেঠুলে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে ঘাম ঝরে গেল। আমার অপেক্ষা করতে দেখে একজন ভোটার পেছন থেকে ঠেলতে থাকেন এবং বলেন, আপনে ঢোকেন না ক্যান ভাই? আমি কিছু বলার আগেই তিনি ভেতের ঢুকে পড়েন। ভেতরে পুলিশ ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি।

সেখানে দায়িত্বরত একজনকে মোবাইল ফোনে বলতে শোনা যায়, না স্যার। কোনো পারসেনটেন্স নাই। আর একটা ঘণ্টা গেলেই বাঁচি। ভোটারও নাই।

4

দায়িত্বরত সেই নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে তিনি আমাকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। বলেন, আপনি কেমন দেখলেন? আমি বললাম কোনো ভোটার নাই কেন? তিনি বলবেন, সকালে লোকজন ছিল। এখন তো খাওয়ার সময়। লোকজন নেই। তিনি বলেন, আগের ভোট যেভাবে উৎসবে পরিণত হতো সেরকমটা নষ্ট হয়ে গেলো। আর কখনো হবে বলে মনে হয় না!

তার সঙ্গে কথা বলার আগেই আমি তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ভোট কক্ষগুলো ঘুরে আসি। কোনো রুমে কোনো ভোটার দেখা যায়নি। ভোটগ্রহণকর্মীরা কেউ কেউ কাচ্চি-বিরানী খাচ্ছেন। কেউ কেউ আবছা অন্ধকার রুমে হাত পকেটে ঢুকিয়ে শীত উৎযাপন করছেন।

ভোট কক্ষগুলো পরিদর্শন শেষে আমিও নিচে নামি। তারপর কিছু ছবি তুলি। ও হ্যাঁ। যে প্রশ্নটি আপনাদের মনে এখন উঁকি দিচ্ছে। এটা ঢাকা-১২ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আসন ।