শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে

অনলাইন সহপাঠী

সাদমান সাদিক, রওনক ইসলাম, ফারহান সাদিক সিয়াম—তিন বন্ধু। রওনক পড়তেন এমআইএসটিতে, আর সাদমান ও ফারহান পড়তেন বুয়েটে। পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতাও করেছেন তাঁরা। এখান থেকেই সকল চিন্তাভাবনার শুরু।

বেশ কিছুদিন ধরে তাঁরা লক্ষ করলেন, তাদের কোচিংয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ক্লাসের বাইরে তাঁদের সাবজেক্টগুলোতে সমস্যায় আটকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সেই সমস্যাগুলোর সমাধান পেতে তাঁদের কাছে ফোন দিচ্ছে। কিন্তু, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যস্ততায় ফোন রিসিভ করতে বা সময় দিতে না পারায় তাঁদের শিক্ষার্থীদের বেশ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাই, তাঁরা এই সমস্যা সমাধানের একটা পথ খুঁজতে শুরু করেন। তাঁরা ভাবলেন, আমরা যদি এমন কোনো ব্যবস্থা করি, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যাগুলো বলতে পারবে আর আমরা সময়মতো সেগুলোর সমাধান করে দিতে পারব। আর সেটা যদি হয় অনলাইন মাধ্যমে তাহলে তো কথাই নেই। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। তাঁরা শুরু করে দিলেন ওয়েবসাইট ভিত্তিক

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান কার্যক্রম। শুরুতে এই কার্যক্রমের নাম দিলেন ‘অ্যাডমিশন ভাইয়া’ এবং পরে নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘অনলাইন সহপাঠী’। অনলাইন সহপাঠী হলো এমন একটি মাধ্যম বা প্লাটফর্ম, যেখানে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে ঢুকে তাঁদের প্রশ্ন বা সমস্যাগুলো লিখে রাখবে এবং অনলাইন সহপাঠীর

ভলান্টিয়ার্স কিংবা অ্যাডমিনগণ এসে সেই সমস্যার সমাধান করে দেবে। আর এর জন্য দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভলান্টিয়ার্স বা ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেওয়া আছে। যাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন নামীদামি স্কুল-কলেজের শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী।

কথা হয় এই অনলাইন কার্যক্রমের সিইও সাদমান মাজিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি,  শিক্ষার্থীদের প্রতিটা প্রশ্নের নিশ্চিত সমাধান দিতে এবং তাঁদের আর আমাদের মাঝে ব্যবধানটা কমিয়ে আনতে। প্রথম দিকে আমরা তিনজন শুরু করলেও পরে আরো আটজন যুক্ত হন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আওসাফ আলম, রাশিদ মাহাদী, সাদিয়া আফরোজ ফাইজা, রায়হানুল আলম, শারমিন আক্তার পূরবী। যারা

সবাই বুয়েটিয়ান। ‘অনলাইন সহপাঠী’ শিক্ষার্থীদের এমন একটি প্লাটফর্ম, যেখানে তারা তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের সমাধানসহ লেখাপড়া বিষয়ক সকল তথ্য এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অফলাইন এবং অনলাইন ভিত্তিক টিউটর নিতে পারে। সেই সঙ্গে দিতে পারে অনলাইন মডেল টেস্টও। এখানে ওয়ান টু ওয়ান সবাই সেবা পাচ্ছে, সেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। আমাদের এই প্লাটফর্মটা একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সময় ও টাকা দুটোই সাশ্রয় করছে। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ঢাকার বাইরে যেকোনো গ্রাম বা মফস্বলের একটা শিক্ষার্থীর জন্য বুয়েট, ঢাবি, ঢাকা মেডিকেলের কোনো ছাত্রের কাছ থেকে অথবা নটরডেম, হলিক্রস, রাজউকের কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর, শিক্ষা এবং গাইডলাইন পাওয়া কিন্তু স্বপ্নের মতো ব্যাপার। আমরা সেটাও সত্য করে চলেছি। বর্তমানে আমাদের কার্যক্রম এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে শিক্ষার সকল পর্যায়ে আমাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেব।’

২০১৭ সাল থেকে পথচলা অনলাইন সহপাঠীর বিষয়ে সাদমান মাজিদ আরো  বলেন, ‘আমাদের এই ওয়েবসাইটে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০-৬০টি প্রশ্ন আসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। তবে, এই সংখ্যাটা বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ভর্তি পরীক্ষার সময় আরো বাড়ে। আমরা ইতিমধ্যে ১১ হাজারেরও বেশি প্রশ্নের সমাধান দিয়েছি শিক্ষার্থীদের। আর এসব কাজ আমরা ৭ জন অ্যাডমিন, ৮ জন এক্সিকিউটিভ মেম্বার, ৬২ জন ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর এবং প্রায় ৫০ জন ভলান্টিয়ারের সমন্বয়ে করে থাকি। আমাদের অনলাইন সহপাঠীর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কোচিং বাণিজ্য থেকে মুক্ত করে খুব সহজ এবং আধুনিকতার আদলে শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করা।’