পিরোজপুর-২ আসনভূক্ত নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় নৌকা মার্কার সমর্থকদের ওপর বিভিন্ন গ্রামে নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র ঈগল মার্কার সমর্থকরা হামলা ও মারধর করছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী গ্রাম জলাবাড়ী ইউনিয়নের মাদ্রা, দৈহারী ইউনিয়নের চিলতলা ও ছৈলাবুনিয়া গ্রামে কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বলদিয়া, আটঘর-কুড়িয়ানা, সোহাগদল ও সারেঙ্গকাঠি ইউনিয়নেও হামলা ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার সকালে মাদ্রা গ্রামে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাবেক ইউপি সদস্য ও নৌকা মার্কার কেন্দ্র আহ্বায়ক মৃত্যুঞ্জয় হাওলাদারকে ঈগল মার্কার সমর্থক একদল সন্ত্রাসী পিটিয়ে মাথা ও বুকে জখম সৃষ্টি করেছে। তাকে পার্শ্ববর্তী জেলা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
অন্যদিকে দৈহারী ইউনিয়নের চিলতলা গ্রামে মো. হাফিজ ও মো. শাহারিয়ার নামের দুইজনকে মারধর করা হয়। এর মধ্যে হাফিজের ওপর হামলা চালিয়ে ঈগল মার্কার কিছু সন্ত্রাসী তার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। একই ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে স্থানীয় যুবকদের একটি ক্লাবে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করেছে। এ সময় ক্লাবের মধ্যে থাকা আসবাবপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং পাশের খালে কিছু আসবাব ফেলে দেয়। পুলিশকে খবর দেয়া হলে তারা এসে ঘটনার ছবি তুলে নিয়ে গেছে। দৈহারী ইউনিয়নে এ ঘটনার পর ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান।
সোমবার দুপুরে কুড়িয়ানা বাজারে নৌকা সমর্থক রাজীব সরকারকে মারধর করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুনের নির্দেশে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নৌকার কর্মী লিটন হালদার ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রভাষক মিলন পাইককে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে লিটন জানিয়েছেন।
এর আগে রোববার রাতে সোহাগদল গ্রামে শেখেরপুল এলাকায় নৌকা কর্মী আমির হোসেনকে মারধর করা হয়। তিনি নেছারাবাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বলদিয়া ইউনিয়নের জিরবাড়ীর মিঠু, কাটাপিটানিয়ার সমীরন বেপারী, চৌদ্দরশি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুর ঈগল মার্কার সমর্থকদের হামলায় আহত হয়েছেন। একই ইউনিয়নের উড়িবুনিয়া গ্রামে রবিবার রাতে ফারুকের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। সারেঙ্গকাঠি ইউনিয়নের সুকাদিত্য গ্রামের পলাশ সুতারের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
নেছারাবাদ থানার ওসি মো. গোলাম সরোয়ার জানান, নির্বাচনের দিন রাত থেকে বিভিন্ন এলাকায় ৫-৬টি হামলা ও সংঘর্ষের খবর ও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।