একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনাসহ চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অন্য তিন প্রার্থী হলেন এসএম এরশাদুজ্জামান ডলার, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কাদের ও সুব্রত কুমার বাইন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা তিন দিনের মধ্যে নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে করতে পারবেন।
রবিবার সকাল ৯টা থেকে খুলনার রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের নেতৃত্বে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, ঋণ খেলাপীর অভিযোগে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসন থেকে প্রার্থী হওয়া জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
অপরদিকে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এরশাদুজ্জামান ডলারের প্রস্তাবক অন্য আসনের ভোটার অন্য আসনের হওয়ায় রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এছাড়া খুলনা-৬ আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কাদের এবং সুব্রত কুমার বাইনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। এদিকে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর শেষ পর্যন্ত খুলনার ৬টি আসনে প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।
রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর সূত্র জানায়, খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসন থেকে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের পঞ্চানন বিশ্বাস, বিএনপির আমীর এজাজ খান, জাতীয় পার্টির সুনীল শুভ রায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মাওলানা আবু সাইদ, ওয়ার্কার্স পার্টির গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়, কমিউনিস্ট পার্টির অশোক কুমার সরকার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ননী গোপাল মণ্ডলসহ সকলের মনোনয়ন যাচাই-বাচাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৯ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ইসলামী আনন্দোলন বাংলাদেশ এর অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এস এম ইসলাম আলী, গণফ্রন্টের মনিরা বেগম, জাকের পার্টির কে এম ইদ্রিস আলী বিল্টু ও কমিউনিস্ট পার্টির এইচ এম শাহাদত এবং বি এনএফ এর এস এম সোহাগের মনোনয়পত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে, বি এনএফ এর এস এম সোহাগের মনোনয়পত্র কিছু সময় স্থগিত রেখে পরে আবার বৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া প্রস্তাবকের ভোটার অন্য আসনের হওয়ায় জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এরশাদুজ্জামান ডলারের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নি অফিসার।
খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর) আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুল ও এসএম আরিফুর রহমান মিঠু, ইসলামী আনন্দোলন বাংলাদেশ এর অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মিল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আ ফ ম মহসিন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের জনার্ধন দত্তের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই শেষে বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৯ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বিএনপির আজিজুল বারী হেলাল ও শরীফ শাহ কামাল তাজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেএম আলী ইমদাদ, বিএনএফের মেজর (অব.) হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের ইউনুস আহমেদ শেখ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, জাতীয় পার্টির হাদিউজ্জামান ও জাকের পার্টির আনসার আলীসহ সকলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নারায়ণচন্দ্র চন্দ, বিএনপির ডা. গাজী আব্দুল হক ও ড. মামুন রহমান, জামায়াতের মিয়া গোলাম পরোয়ার, সিপিবির চিত্তরঞ্জন গোলদার, ইসলামী আন্দোলনের শেখ মুজিবুর রহমান ও কমিউনিস্ট পার্টির চিত্ত রঞ্জন গোলদারের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ১২ জন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান বাবু, বিএনপির এস এম শফিকুল আলম মনা, জামায়াতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু, জেএসডির আইয়ুব আলী কাজী, ইসলামী আন্দোলনের গাজী নূর আহমেদ, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, কমিউনিস্ট পার্টির সুবাস চন্দ্র সাহা, জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সব্রত কুমার বাইন ও মো. আব্দুল কাদের। তবে, ঋণ খেলাপীর অভিযোগে বিএনপির এস এম শফিকুল আলম মনা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সব্রত কুমার বাইন ও মো. আব্দুল কাদেরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা তিন দিনের মধ্যে নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে করতে পারবেন। আপিল কর্তৃপক্ষই তাদের প্রার্থীতার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দিবেন।
ইত্তেফাক/এমআই