দোয়ারাবাজারে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি

হাতি নিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। যে রাস্তা দিয়ে হাতি যায়, ভয়ে সেখানে যেতে পারছেন না শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। এর ফলে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার ব্যাঘাত ঘটছে। হাতির দাপট থেকে বাদ যাচ্ছে না দোকানপাট। দোকানি টাকা গুজে না দেওয়া পর্যন্ত হাতি শুঁড় এগিয়ে দিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়া রাস্তায় গাড়ি আটকে টাকা নেওয়ার ঘটনাও নেহায়েৎ কম নয়।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে এমন ঘটনা অহঃরহ ঘটছে। হাতির ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে অভিনব কৌশলে এই চাঁদাবাজি চলছে। ফলে স্থানীয় অধিবাসী, চালক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

‘টাকা না দিলে হাতিটি যাবে না। এছাড়া অনেক সময় দোকান ভাঙচুরও করে। এজন্য ঝামেলা হওয়ার আগেই টাকা দিয়ে বিদায় করলাম’
- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোকানদার

সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকালে আমবাড়ী বাজারসহ বিভিন্ন রাস্থায় হাতি দিয়ে টাকা তুলছেন মাহুত। সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে শুরু করে দোকানের ধরণ অনুযায়ী ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। আমবাড়ী বাজারের একটি মুদি দোকানে হঠাৎ বিশালদেহী হাতিটি মাহুতের ইশারায় শুঁড় এগিয়ে দেয় দোকানে। ভয়ে দোকানদার ৩০ টাকা হাতিটির শুঁড়ে গুজে দেন।

‘হাতির ভরণপোষণের জন্য সবাই খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়। কেউ খুশি হয়ে টাকা দিলে তা আবার চাঁদাবাজি হয় কীভাবে? তবে আমরা কারও ওপর কোনো জোরাজুরি করি না। যার ইচ্ছা হয় সে দেয়’
- রাকিব ইসলাম
হাতির মাহুত

টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোকানদার অভিযোগ করেন, ‘টাকা না দিলে হাতিটি যাবে না। এছাড়া অনেক সময় দোকান ভাঙচুরও করে। এজন্য ঝামেলা হওয়ার আগেই টাকা দিয়ে বিদায় করলাম।’

উপজেলার মান্নারগাও ইউপির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আব্দুল কাইয়ুমসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী জানান, মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাতি নিয়ে এসে চাঁদা আদায় করেন তারা। সব দোকান থেকেই হাতি দিয়ে চাঁদা তোলা হয়। চাঁদা না দেওয়া পর্যন্ত দোকান থেকে হাতি সরিয়ে নেওয়া হয় না। হাতি দিয়ে অভিনব কৌশলে চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন যেন সুদৃষ্টি দেয়।

হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় অধিবাসী আনোয়ার বলেন, ‘দোকান থেকে চাঁদা ওঠানো শেষ হলে হাতিগুলো রাস্তায় নামে।’

শুধু দোকানেই তারা চাঁদাবাজি করেন না। চলন্ত গাড়ি থামিয়ে দিয়েও চাঁদা আদায় করেন তারা। এতে যানজ দেখা দেয়।

চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে হাতির মাহুত রাকিব ইসলাম বলেন, ‘হাতির ভরণপোষণের জন্য সবাই খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়। কেউ খুশি হয়ে টাকা দিলে তা আবার চাঁদাবাজি হয় কীভাবে? তবে আমরা কারও ওপর কোনো জোরাজুরি করি না। যার ইচ্ছা হয় সে দেয়।’

দোয়ারাবাজার থানার ওসি বদরুল আলম বলেন, ‘হাতি দিয়ে টাকা তোলার বিষয়ে এখনও কেউ আমাদের কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’