ফরিদপুর-২

ফলাফল প্রত্যাখান করে পুনঃনির্বাচনের দাবি স্বতন্ত্র প্রার্থীর

নির্বাচনের দুই দিন পর সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ভোটের ফলাফল প্রত্যাখান করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জামাল হোসেন মিয়া। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। 

জামাল হোসেন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে আমাকে জোর করে হারানো হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকার ১শ ১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে গট্টি, যদুনন্দী, রামনগর, কাইচাইল ইউনিয়নের ভোট জোর করে নৌকা প্রতিকে নিয়ে নেয়, কয়েকটি কেন্দ্রের ভোট প্রকাশ্যে নৌকার সন্ত্রাসী সমর্থকরা কেটে নেয়, তার মধ্যে বাবুর কাইচাইল, বালিয়া গট্টি, জয়ঝাপ, বড়খারদিয়া, সুতারকান্দা, পোড়াদিয়া, কৃষ্ণাডাঙ্গী কেন্দ্র সহ আরও কয়েকটি কেন্দ্রে নৌকা প্রতিকে জোর করে ভোট নিয়ে নেয়। 

তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রিজাইডিং অফিসার ২০০/৩০০ ভোট কেটে নৌকার সিল মেরে ব্যালট আগেই রেখে দিয়েছিলেন এবং আমার ঈগলের ভোটের ওপর নৌকা লিখে বান্ডিল করেছেন। আমার চোখের সামনে ভোট কেটে নিয়েছে। প্রকাশ্যে নৌকায় ছিল মেরেছে অনবরত জাল ভোট দিয়েছে, আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে বার বার বলা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেন নাই, ওই সময় তারা বলেন ভেতরে কি হলো আমাদের সেটা দেখার বিষয় না। 

Faridpur2

তিনি বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারকে কমপ্লেন করতে হবে। আমি বললাম, প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই জড়িত তারপরেও কোনো পদক্ষেপ নেন নাই, আমি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বারবার ভোট বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, সহকারি রিটার্নিং অফিসারকে ফোন দিয়েছি কোনো কাজ হয় নাই। আমার পুলিং এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে, প্রায় ২০টি কেন্দ্র থেকে আমার পুলিং এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়। 

প্রহসনের নির্বাচন, কারচুপির নির্বাচন ও ব্যালট ছিনতাইয়ের নির্বাচন নগরকান্দা, সালথাবাসী, প্রত্যাখান করেছে, এই ফলাফল আমরা মানি না, মানব না। আমার ঈগলের অনেক ভোট নষ্ট দেখানো হয়েছে। আমি ভোটে জিতেছি আমাকে জোরপূর্বক ১হাজার ৯শ ভোটে পরাজয় দেখানো হয়েছে।

জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, নির্বাচনের একদিন যেতে না যেতেই নগরকান্দা ও সালথায় আমার সমর্থকদের প্রায় ২শ বাড়ি ঘর, দোকান পাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নিয়েছে, আমার নেতাকর্মীর ওপর নির্মম-নির্যাতন হামলা চালানো হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সেই সঙ্গে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানাই।

যে সকল কেন্দ্রে অনিয়ম ভোট চুরি ব্যালট ছিনতাই জাল ভোট প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে ছিল মারা, মৃত ব্যক্তি ও প্রবাসীদের ভোট কাস্ট করা হয়েছে। সেই সব কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনঃনির্বাচন দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাই।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেষকে অমান্য করে যারা নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ও পুনঃনির্বাচন দিয়ে জনগনের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী ৮৬ হাজার ৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল হোসেন মিয়া ঈগল প্রতীকের পান ৮৪ হাজার ১১৪ ভোট। নৌকার প্রার্থী ১ হাজার ৯শ ৮১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।