ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। আসনটিতে টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর মোকতাদির চৌধুরীকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান জেলার দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ জনগণ ও সুশীল সমাজ।
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক জয়দুল হোসেন বলেন, বিগত সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন মোকতাদির চৌধুরী। শিক্ষা-সংস্কৃতির পাশাপাশি জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি একজন যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাকে মন্ত্রী করা হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের আক্ষেপ ঘুচবে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মোকতাদির চৌধুরী। প্রতিদন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ৯৫ হাজার বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। ২০১১ সালে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত তিনি। এবার জয়ের ফলে টানা চতুর্থবার বিজয়ী হন।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক মেয়র হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার জন্য যেখানেই গিয়েছি সেখানেই মানুষ প্রত্যাশা জানিয়েছে মোকতাদির চৌধুরী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রীসভায় স্থান পাবেন। দলে তার অনেক অবদান রয়েছে। তিনি দলের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে সুসংগঠিত করেছেন।
তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি ছিলেন মোকতাদির চৌধুরী। ৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংকটকালে জেল-নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন তিনি। ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোকতাদির চৌধুরী। সেসময় জেলার ব্যাপক উন্নয়ন করেন তিনি।
তরী বাংলাদেশের আহবায়ক শামীম আহমেদ বলেন, বিগত দিনে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন মোকতাদির চৌধুরী। উনি মন্ত্রী হলে দেশ ও জাতির কল্যাণের উনার মেধা ও কৌশল কাজে লাগানো সুযোগ পাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
ড্রিম ফর ডিজএবিলিটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি হেদায়েতুল আজিজ মুন্না বলেন, জেলার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। আজ আমরা কিছু করার স্বপ্ন দেখি কারণ বাস্তবায়নে তিনি আমাদের পাশে থাকেন। সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে নিতে উনার মতো নেতাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাই।
মোকতাদির চৌধুরী বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজয়নগরকে উপজেলা করার ব্যাপরে তার ভূমিকা সর্বজন স্বীকৃত। বিজয়নগরের ভোটারাও চান মোকতাদির চৌধুরীকে মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত করা হোক।
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা। নতুন সরকার হিসেবে মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়ার বিষয়টি বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।