গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে করা দক্ষিণ আফ্রিকার মামলার শুনানি হয়েছে। ইরানও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর আগে বলিভিয়াও এই মামলার সঙ্গে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয়। শুনানিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা বলেছেন, হামাসবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজায় গণহত্যাবিষয়ক কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্যে দায়ের করা মামলার শুনানির প্রথম দিনে তিনি এ কথা বলেছেন। যদিও ইসরাইল বারবার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিচারমন্ত্রী বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইল তিন মাসের বেশি সময় ধরে বর্বর যুদ্ধ চালাচ্ছে এবং হামাসের ৭ অক্টোবরের অভিযানের জবাব দিতে গিয়ে ইসরাইল যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, তা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারমন্ত্রী আরো বলেছেন, গাজার যে সহিংসতা আমরা দেখতে পাচ্ছি তা ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়নি, তা মূলত শুরু হয়েছে ৭৫ বছর আগে। লামোলা বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ফিলিস্তিনের জনগণ ইসরাইলের হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের মধ্যে বসবাস করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনের গ্যাঁড়াকলে ফেলে এখনো গাজাকে অধিকৃত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি সুস্পষ্ট করে বলেন, ৭ অক্টোবর হামাসের অভিযানের জবাবে ইসরাইল যেভাবে আগ্রাসন চালিয়েছে তাতে আন্তর্জাতিক সব কনভেনশন লঙ্ঘন হয়েছে। গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পাওয়ার পরই দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
মামলার প্রতি সমর্থন দিল ইরান
দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিতে যে মামলা দায়ের করেছে তার প্রতি সমর্থন দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। তেহরান বলেছে, দখলদার ইসরাইলি বাহিনী অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বেসামরিক জনগণের ওপর যে ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞ চালিয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ইহুদিবাদী ইসরাইল কয়েকটি সরকারের পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ও সীমাহীন সমর্থন পেয়েছে, যার কারণে গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের নিরপরাধ জনগণের ওপর তারা পূর্ণ শক্তি নিয়ে আগ্রাসন চালিয়েছে। গত তিন মাস ধরে তারা এই অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে আসছে এবং নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে ইসরাইল সব আন্তর্জাতিক কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে।
সহায়তা পাঠাতে পারছে না ডব্লিউএইচও
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়ে দিয়েছে, ষথেষ্ট নিরাপত্তার আশ্বাস না পেলে তারা গাজায় মানবিক সাহায্যের মিশন বন্ধ করতে বাধ্য হবে। বুধবার তারা সাহায্য পাঠায়নি গাজায়। অভিযোগ, গাজায় তাদের একাধিক কর্মী নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার কর্মীদেরও সেখানে আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে। গত ২৬ ডিসেম্বর শেষবার গাজায় ডব্লিউএইচও কর্মীরা মানবিক সাহায্য নিয়ে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। গাজা উপত্যকার ৩২টির মধ্যে মাত্র ১৫টি হাসপাতাল আংশিকভাবে চালু আছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বুধবার ফিলিস্তিনের মানবাধিকার সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তাদের একটি অ্যাম্বুলেন্সে গোলা এসে লেগেছে। ঘটনায় ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। সবাই মানবাধিকারকর্মী ছিলেন। গাজায় সাহায্যের জন্য গিয়েছিলেন। হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি এখন পর্যন্ত ১২০টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়েছে। ৩২৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। গাজায় সব মিলিয়ে ২৩ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। —আলজাজিরা ও পার্স টুডে