দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে মামলাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গেছে তাতে এটিই বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে যে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে কিনা।
ইসরায়েল অবশ্য এটি কে শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত হলো জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত, যার সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে। দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগ গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
হামাসের শত শত বন্দুকধারী গাজা উপত্যকা থেকে গিয়ে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় তেরশ মানুষকে হত্যা করে এবং ২৪০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।
এরপর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল এবং হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে ওই অভিযানে সেখানে তেইশ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকা যে প্রমাণপত্র জমা দিয়েছে তাতে দাবি করা হয়েছে যে ইসরায়েলের যে কার্যক্রম তার সঙ্গে গণহত্যার বৈশিষ্ট্যের মিল আছে কারণ তারা ফিলিস্তিনিদের জাতীয়, জাতিগত এবং নৃগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অংশকে ধ্বংস করতে চেয়েছে।
ইসরায়েল গাজায় যা করেছে এবং যা করতে চেয়েছে- উভয় ক্ষেত্রেই এ বক্তব্য তুলে ধরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অর্থাৎ ইসরায়েল এখন যা করছে যেমন বিমান হামলা এবং যা করতে পারেনি তাহলো বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এই মামলায় গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ্যে ইসরায়েল যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে সেটিকে তুলে ধরা হয়েছে ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ এর প্রমাণ হিসেবে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর করা কিছু মন্তব্যও আছে।
ইসরায়েল অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “নো, দক্ষিণ আফ্রিকা, গণহত্যার অপরাধ আমরা করিনি, এটি করেছে হামাস। তারা পারলে আমাদের সবাইকে হত্যা করতো। বিপরীতে আইডিএফ (ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স) যতটা সম্ভব নৈতিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছে।”
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে তারা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর মধ্যে আছে, হামলার আগে সতর্কতা জারি করা, যেসব ভবন টার্গেট করা হয়েছিল সেগুলো ছেড়ে দিতে বেসামরিক নাগরিকদের ফোনে অনুরোধ করা।
বেসামরিক নাগরিকরা চলাচল করছে এমন সময়ে কিছু হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করা এবং ইসরায়েল সরকার বারবার বলেছে তাদের লক্ষ্য হামাসকে ধ্বংস করা, ফিলিস্তিনের মানুষকে নয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের একজন মুখপাত্র বলেছেন সুনাক বিশ্বাস করেন যে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলাটি ‘পুরোপুরি অন্যায্য ও ভুল’।
“এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ শান্তি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে না। যুক্তরাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে ইসরায়েলিদের নিজেদের রক্ষার অধিকারের সাথেই রয়েছে।”