যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, বিএনপির জন্য শুধু মানুষের ঘৃণাই রয়েছে। মানুষ তাদের বিশ্বাস করে না। তাই তারা নির্বাচনে যেতে ভয় পেয়েছে। কারণ তারা জানে- এই অপরাধী বিএনপিকে মানুষ কোনোদিনও ভোট দেবে না। সেই অপরাধবোধ থেকে মানুষের সামনে ভোট চাইতে ভয় পেয়ে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর বনানী মডেল স্কুল মাঠে যুবলীগের উদ্যোগে দেশব্যাপী শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় ৮০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, যুবলীগ গণমানুষের সংগঠন। আমাদের রাজনীতি আপনাদের জন্য। যুবলীগ শুধু ভোটের সময় আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসে না, ভোটের পরেও আমরা আপনাদের কাছে ছুটে আসে। আমাদেরকে আপনারা সর্বদা আপনাদের কাছে পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের সকল রাজনৈতিক কর্মসূচি আপনাদেরকে কেন্দ্র করে। আপনাদের মৌলিক চাহিদা রক্ষা করা আমাদের রাজনীতি করার প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা। সেই উদ্দেশ্যে আপনারা দেখেছেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে সবচেয়ে প্রথমে দ্রব্যমূল্য কমানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে। জনগণের কল্যাণে গণমানুষের সংগঠন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাবনায় সাধারণ জনগণই সর্বদা প্রাধান্য পায়। এছাড়া আমরা ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখেছি, এদেশে যখনই আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল তখনই দেশের উন্নয়ন হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
যুবলীগের চেয়ারম্যান বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ থিমে, ‘উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’ স্লোগানে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। তার মধ্যে কিছু বিষয় আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো: (১) দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া (২) কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা (৩) নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা। আওয়ামী লীগ সরকারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনাদের জীবনমান উন্নত করা। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আপনাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুকন্যার উপর আস্থা রাখতে হবে। অচিরেই আমরা এই সংকট সমাধান করবো।
তিনি বলেন, বর্তমান যুবলীগের অন্যতম লক্ষ্য রাষ্ট্রের মানবিক ধারাকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং গণমানুষের সুখে-দুঃখে সাথে থাকা। এ লক্ষ্যে যুবলীগ ইতিমধ্যে বেশ কিছু মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে যার একটি সামান্য প্রয়াস আজকের এই দেশব্যাপী শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান। যুবলীগের সকল নেতা-কর্মীরা মানুষের পাশে থাকবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রতিটি মানুষের যেন জীবনের উন্নতি হয়, আপনাদের প্রতিটি ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া শিখে মানুষ হয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, উন্নত জীবন পায়, সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। একটা ন্যায় পরায়ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্ম গণমানুষের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে, এটা আমাদের প্রত্যাশা। এভাবেই বাংলার আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটা নববিপ্লবের সূচনা করবে আমাদের প্রগতিশীল যুবসমাজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, আমরা কথায় বিশ্বাস করি না, আমরা কাজে বিশ্বাস করি। কাজে বিশ্বাস করি বলেই আমাদের যুবলীগের নেতা-কর্মীরা, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগের নেতা-কর্মীরা করোনার সময় সাধারণ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। নিজেদের জীবন বাজি রেখে তাদের সর্বস্ব দিয়ে এদেশের মানুষের সহায়তা করেছিল। যারা বার বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, মানুষের দুর্দিনে তাদের পাশে থাকে না, তারাও একদিন বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে চাই যেখানে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ শীতবস্ত্র বিতরণ বা ত্রাণ দেওয়ার লোক পাবে না। প্রতিটি মানুষ শিক্ষা-দীক্ষায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। কোনো শিক্ষিত মানুষ বেকার থাকবে না, অলস বসে থাকবে না, মানুষ কাজ করে খাবে, সবারই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। প্রতিষ্ঠিত হবে ক্ষুধা-দারিদ্র মুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. হাবিবুর রহমান পবন, ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোদ্দার, মো. আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মো. জহির উদ্দিন খসরু, মো. সোহেল পারভেজ, মশিউর রহমান চপল, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মো. শামছুল আলম অনিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মুস্তাফিজ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হেমায়েত উদ্দিন মোল্লা, উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. সফেদ আশফাক আকন্দ তুহিন, উপ-ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন, উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফজলে রাব্বী স্মরণ, উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সামসুল ইসলাম পাটোয়ারী, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া শামীম, উপ-ধর্ম সম্পাদক হরে কৃষ্ণ বৈদ্যসহ কেন্দ্রীয় মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতারা।