দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শক্তিশালী প্রার্থীকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হয়েছেন যারা, তাদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা–৩ (মুরাদনগর) আসনে জাহাঙ্গীর আলম সরকার। তিনি কথা বলেছেন দৈনিক ইত্তেফাক ডিজিটালের সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নভেম অপু।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকার। তিনি মোট ৮৩ হাজার ৯৭১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সংসদ সদস্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৪ ভোট।
ইত্তেফাক ডিজিটাল: ষষ্ঠবারের চেষ্টায় প্রথমবারের মতো ভোট করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কী রকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছিল আপনাকে?
জাহাঙ্গীর আলম সরকার: আমি দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতি করে আসছি। প্রায় ২৭ বছর কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বার বার মনোনয়ন দিয়েছিলেন কিন্তু কুমিল্লা উত্তর অঞ্চল (মুরাদনগর-হোমনা) বিএনপি অধ্যুষিত ও রাজনৈতিক প্রতিকূল এলাকা হওয়ায় আমার সংসদ সদস্য হয়ে উঠা হয়নি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আমাদের নেত্রী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এবার আল্লাহর রহমতে মানুষের দোয়া ও ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি।
ইত্তেফাক ডিজিটাল: শক্ত নৌকা প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এই জয়ের মূলমন্ত্র কী?
জাহাঙ্গীর আলম সরকার: আমাদের নেত্রী সাবেক সংসদ সসদ্যকে (ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন) বিশ্বাস করে পর পর দুইবার বৃহত্তর মুরাদনগর উপজেলাকে সেবা করা সুযোগ দিয়েছেন কিন্তু তিনি এলাকার উন্নয়ন না করে উনার উন্নয়ন করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিএনপি-জামায়েতের লোকদের দলে ভিড়িয়েছেন এবং এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব করেছেন। তাই এবার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ও সাধারণ ভোটাররা আমাকে ভোট দিতে মুখিয়ে ছিলেন।
ইত্তেফাক ডিজিটাল: আপনার নির্বাচিত এলাকায় প্রধান সমস্যা মাদক ও চাঁদাবাজি। এসব বিষয়ে আপনার পদক্ষেপ কী থাকবে?
জাহাঙ্গীর আলম সরকার: আমি যে দিন নির্বাচিত (৭ জানুয়ারি) হয়েছি সেদিন হতেই মুরাদনগর উপজেলার সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ করে দিয়েছি। ইতিমধ্যে জিপি (সিএনজির চাঁদা) বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে সর্বত্র চাঁদাবাজি, মাদক সেবন ও মাদক কারবার নির্মূল করে মুরাদনগরকে চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করা হবে।
ইত্তেফাক ডিজিটাল: আপনার নির্বাচিত এলাকা দেশের অন্যান্য এলাকা হতে কাক্ষিত উন্নয়ন হয়নি এবং বিশেষ করে এলাকার রাস্তা-ঘাট ভাঙ্গা ও অনেক মাটির রাস্তা রয়েছে সেই ক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী হবে।
জাহাঙ্গীর আলম সরকার: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার থাকলেও মুরাদনগর উন্নয়ন বঞ্চিত। সাবেক এমপি (ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন) শুধু নিজের উন্নয়ন করছেন। ইনশা-আল্লাহ এবার এলাকার ভাঙ্গা রাস্তা-ঘাট মেরামত হবে। বিভিন্ন এলাকায় মাটির রাস্তা ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে যথাসাধ্য চেষ্টা করব।
ইত্তেফাক ডিজিটাল: নির্বাচনী প্রচারের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী পাঁচ বছরে সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবেন বলে কী মনে হচ্ছে?
জাহাঙ্গীর আলম সরকার: নির্বাচনী প্রচারের সময় যেসকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব এবং সফল হবো বলে আশা করি। মুরাদনগর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করব। বেকার মানুষের কর্মসংস্থানে ব্যবস্থা করব ইনশা-আল্লাহ।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৮টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচন হয় ২৯৯ আসনে। ২৮টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে প্রার্থী ছিলেন ১৯৭১ জন। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২২টি আসন পেয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১১টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৬২টি আসন, এছাড়া অন্যান্য দল থেকে পেয়েছেন ৩টি আসন।