কমলগঞ্জ যেন প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্যের ভাগাড়

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার হাট-বাজারসহ রাস্তার পার্শ্ববর্তী নানা স্থানে ফেলা হচ্ছে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য। এতে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে সর্বত্র। মাটির গর্তে পলিথিন ও প্লাস্টিকের আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার কারণে বন্ধ হচ্ছে ছড়া ও ড্রেনের মুখ। নালা ও ড্রেনের পানিতে ভেসে নদী, ছড়া ও জলাশয়ে যাচ্ছে এসব বর্জ্য, যা মাটি, পানি ও বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, হাট-বাজারের মুদি দোকান থেকে শুরু করে স্টেশনারি পর্যন্ত সব ধরনের দোকানে অবাধে নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রি হচ্ছে। পলিথিনের কারখানাগুলো বন্ধ না হওয়ায় অবাধে ক্রয়বিক্রয় হচ্ছে। গ্রামীণ দোকানপাটে ও বাড়িঘরে পলিথিন, শপিং ব্যাগ ও প্লাস্টিকে সয়লাব হচ্ছে। নালা ও খালের পানির সঙ্গে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নদী, ছড়া, খালবিল, পুকুর, জলাশয় ও নিচু এলাকার কৃষিজমিতে গিয়ে পতিত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গবাদিপশুও খাবারের সঙ্গে পলিথিন গিলে খাচ্ছে। এতে স্থল ও জলজ পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হচ্ছে।

গত কয়েক বছরে হাট-বাজার ছাড়াও পাড়া-মহল্লা এবং রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা দোকানপাটে পলিথিনের ব্যবহার মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ব্যবহার্য প্লাস্টিকের বোতলজাতও যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। এগুলো পর্যায়ক্রমে নদী, ছড়া ও জলাশয়ে যাচ্ছে। পলিথিন মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, মাছ-মাংস প্যাকেটজাত করে সংরক্ষণ করলে ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয়ে মাছ-মাংসে দ্রুত পচন ধরায়। বিষয়টি পলিথিন উত্পাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কমলগঞ্জ জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া, সমাজকর্মী ফটিকুল ইসলাম, চা-শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও পলিথিন এখন সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে। পলিথিন আর প্লাস্টিকের সংমিশ্রণে মাটি, পানি দুষিত হচ্ছে। অপচনশীল উপাদান হিসাবে পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটাচ্ছে। পলিথিন ও শপিং ব্যাগ, প্লাস্টিক ড্রেন, নর্দমায় পড়ে পানি নিষ্কাষনে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এমনকি ড্রেন ও নালার মুখ বন্ধ হয়ে হাট-বাজারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ব্যাবসায়ীরা বলেন, ফ্যাক্টরি থেকে পলিথিন ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যাগ এনে বাজারে বিক্রি করছেন। যে কারণে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের মালামালের সঙ্গে ব্যাগ ফ্রি দেওয়া হচ্ছে। ফলে যত্রতত্র ব্যাগ ফেলে পরিবেশ দূষিত করে তোলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমম্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, পলিথিন ও প্লাস্টিক নদী ও হাওরের তলদেশে গিয়ে পতিত হচ্ছে। জলজ প্রাণিসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় অনতিবিলম্বে নিষিদ্ধ পলিথিনের কারখানাগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব দোকানে ২০-২৫ কেজি পলিথিন পাওয়া যাবে, সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের কোনো তথ্য থাকলে জানালে আমরা অভিযান পরিচালনা করব।’