আগের সন্ধ্যায় ঢাকায় এসেছেন নতুন নিয়োগ পাওয়া বাফুফের এলিট একাডেমির ইংলিশ হেড কোচ পিটার জেমস বাটলার। গতকাল দুপুরবেলা কমলাপুর স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা করলেন একাডেমির খেলোয়াড়দের সঙ্গে। ডরমেটরিতে গিয়ে ক্যাম্পের সব খেলোয়াড়দের ডেকে তিন তলায় প্রেসবক্সের ভেতের কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা বসলেন। মিনিট ৩০ আলোচনা শেষে খেলোয়াড়দের নিয়ে মাঠে নামলেন সবাই। সেখানে লাইনে দাঁড়ানো খেলোয়াড়দের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হলেন পিটার। হাত মেলাচ্ছেন আর বলছেন, ‘নাইস টু মিট য়্যু। নাইস টু মিট য়্যু।’
এই একটা কথা ৫২ বার বলেছেন। পরিচিতি পর্বেই কাউকে কাউকে ভেরিগুড, ভেরিগুড বললেন পিটার। কারো শারীরিক উচ্চতা দেখেই থেমে গেছেন পিটার। জানতে চেয়েছেন তুমি কোন পজিশনে খেল। প্রশ্ন করেন এখানে স্ট্রাইকার কে, মিডফিল্ডে খেলে কে? তুমি গোলকিপার? শারীরিকভাবে উচ্চতায় এগিয়ে থাকা কোনো ফুটবলার দেখলেই কথা বলেছেন। শারীরিক উচ্চতা পিটারের পছন্দ হয়েছে। অর্ধশত তরুণের মধ্যে হাতে গোনা ১০-১৫ জন ফুটবলারের শারীরিক উচ্চতা, তুলনায় ভালো।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্টহামে খেলা এই সাবেক ফুটবলার পিটার জেমস বাটলার ইংল্যান্ডের ফুটবলেই ৫০০ ম্যাচ খেলেছেন, হাই প্রোফাইল কোচ। ভালো খেলেছেন। কোচ হিসেবেও তার অভিজ্ঞতা দীর্ঘ দিনের। উয়েফা প্রো-লাইসেন্সধারী কোচ তিনি। বাংলাদেশের মতো পিছিয়ে থাকা ফুটবল দেশের একাডেমিতে আসাটা বিস্ময়কর। ‘আমাকে অনেকেই এখানে বলেছিল আমি জাতীয় দলের কোচ হয়ে কেন বাংলাদেশে যাচ্ছি। আমি তাদেরকে বুঝিয়েছি এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। আমার দায়িত্বকালীন আমি বাংলাদেশের ফুটবলকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে চাই। আমি শেখাতে এসেছি এখানে আমার কাজের অভিজ্ঞতাও হবে। কারণ এখানকার ফুটবল, এখানকার পরিবেশ, কাজের ধরন, এখানে ক্রিকেটের প্রতিও মানুষের ভালোবাসা আছে। নারী ফুটবলে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে, বললেন পিটার বাটলার।’ উদাহরণ দিলেন পিটার, ‘আফ্রিকান দেশ বতসোয়ানা তরুণ ফুটবলের প্রতি নজর দিয়ে তারা ফুটবলে উন্নতি করেছে। তিন বছরের মধ্যে এই দেশটি ফিফার র্যাংকিংয়ে ৮৫ নম্বরে উঠে গেছে। এখন সেই দেশের খেলোয়াড়রা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।’
জাতীয় দলের কোচ ছিলেন পিটার, সেখান থেকে কেন একটা দেশের একাডেমির কোচ হলাম ? পিটার বাকলার বলেন, ‘আমি তারুণ্য বিশ্বাস করি। এই তরুণ ফুটবলাররা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাবে। আমি ওদেরকে বলেছি তোমরা বড় খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখ। স্বপ্নটা যেন ভেঙে না যায় যেভাবে নিজেকে তৈরি কর। একবার স্লিপ করে গেলে তোমার জায়গায় অন্য কেউ এসে যাবে। এক রাতেই ১০-২০ ভাগ উন্নতি হয়ে যাবে এমনটা কেউ ভেব না। প্রতিদিনই তুমি শিখবে।’
ম্যাচ জেতা মানেই সাকসেস। সবাই এটাই চায়। হ্যাঁ রেজাল্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু আরো কিছু ব্যাপার আছে যেখানে ম্যাচ জেতার বাইরেও সাকসেস থাকতে পারে। খেলোয়াড়রা লড়াই করতে পারে সেটাও দেখার বিষয়। সব সময় ম্যাচ জিতবে না।
ফুটবল ক্যারিয়ার কিংবা কোচিং ক্যারিয়ার একাডেমির কোচ পিটারের ধারে কাছে নেই বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা। কিন্তু পিটার বাকলার কাজ করবে একাডেমিতে, সেটি নিয়ে কোনো আফসোস নেই তার। কাবরেরা প্রসঙ্গে পিটার বাকলার বলেছেন, ‘উনি যদি কোনো পরামর্শ চান তাহলে আমি অবশ্যই সেটি খুশি মনে এগিয়ে আসব। আমি এখানে এসেছি ফুটবল উন্নয়নে কাজ করতে।’
কোনো ধরনের ফুটবল শেখাবেন পিটার? বললেন, ‘আমি ইংলিশ ফুটবল খেলেছি, ইংলিশ ফুটবলে কোচ ছিলাম, দেখেছিল ইংলিশ ফুটবল, আমার চোখে মুখে ইংলিশ ফুটবল। ওয়েস্টহ্যাম ১৯৭০-৮০তে ভিন্ন স্টাইলে ফুটবল খেলেছে। সবাই সেটা উপভোগ করেছে। আক্রমণাত্মক ফুটবলই সবার পছন্দ। তরুণরাও সেটি পছন্দ করে।’