কক্সবাজার হোক পর্যটকবান্ধব

কক্সবাজার পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থান। সবারই ইচ্ছা থাকে জীবনে অন্তত একটিবারের জন্য হলেও সমুদ্রে গা ভাসানোর। ইট-পাথরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিবছর লাখ পর্যটকের আগমন ঘটে কক্সবাজারে। অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা কক্সবাজারে একজন পর্যটক সাক্ষী হতে পারে সমুদ্রের সুউচ্চ ঢেউয়ের, সূর্যাস্তের, দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভে, বিশাল আকৃতির পাহাড় এবং সমুদ্রে পাথর দেখার। এছাড়াও রয়েছে প্রতিটি উপজেলায় বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান—রামু বৌদ্ধ বিহার, চা বাগান, ক্যাপ্টেন কক্সের বাংলো, উখিয়ার গোয়ালিয়া (মিনি বান্দরবান), চকোরিয়ার নিভৃতে নিসর্গ, মহেশখালীর আদিনাত মন্দির। কুতুবদিয়ার সমুদ্রসৈকত ও বায়ু বিদ্যুেকন্দ্র, টেকনাফের সেন্টমার্টিন ও ছেঁড়াদ্বীপসহ অনেক পর্যটন স্পট। এত সম্ভাবনার মধ্যেও আমরা পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে কতোটা সফল এই ব্যাপারে প্রশ্ন রয়েই গেল। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হলো দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। কিন্তু বিগত ১০ বছরে এই পর্যটন নগরীতে পর্যটকদের জন্য কী করা হয়েছে, যার ফলে পর্যটকরা আপন মনে চাহিদানুসারে সময় কাটাতে পারেন?

বর্তমান সময় এবং গত ১০ বছর আগের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো ১০ বছর আগে ব্যাঙের ছাতার মতো হোটেল-মোটেল আর গেস্ট হাউস ছিল না, এখন এই সংখ্যা অনেকগুণ বেড়েছে, সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াত খরচ। পর্যটকদের জন্য নেই সরকারি কোনো দিকনির্দেশনা। সমুদ্রসৈকতের পরিবেশও পর্যটকবান্ধব বলা যায় না; এখানে দেখা মেলে কুকুর, গরু এবং অসুস্থ ঘোড়া, নেই সঠিক বর্জ্যব্যবস্থাপনা। একান্তে সময় কাটাতে বা চেয়ারে বসে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করতে চাইলেও তা সম্ভব না, কারণ একের পর এক ভিক্ষুক, ফেরিওয়ালা, চা-কফি বিক্রেতা, শিশুরা এসে গান শোনাতে চাইবে, মাথা টিপে দিতে চাইবে। এর ফলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা প্রতিবছর কমছেই। এ অবস্থায়, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচিত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা এবং সেই মোতাবেক কাজ করা।

পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের জিডিপি, ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (ডব্লিউটিটিসি)। এক তথ্যমতে পর্যটনশিল্প ২০১৯ সালে আমাদের জিডিপিতে প্রায় ৩ শতাংশের অবদান রেখেছিল, যা প্রায় ৯ হাজার ৮১৩ মিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে এই সংখ্যা একটু কমে দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ২২৭ মিলিয়ন ডলারে; কিন্তু ২০২১ সালে করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় এই শিল্প—জিডিপিতে আবদান রাখে ২ শতাংশ, সংখ্যায় যা প্রায় ৭ হাজার ৮৩৩ মিলিয়ন ডলার। পর্যটনশিল্পে প্রতিবছর কক্সবাজার বিরাট ভূমিকা পালন করে; এই আবস্থান ধরে রাখতে হলে ছোট ছোট সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে পর্যটক নিরাপত্তায় আরো সতর্ক হওয়া, বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা জোনের ব্যবস্থা করা। আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁর মান যাচাই করে ভাড়া নির্ধারণ, সরকারিভাবে সপ্তাহে একবার স্বল্প খরচে ট্যুরের ব্যবস্থা করা। সমুদ্রসৈকতে কুকুর, গরু, অসুস্থ ঘোড়া ও হকারের উত্পাত কমিয়ে আনা। এবং শহরের কলাতলি মোড় ও টার্মিনালে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেস্ক স্থাপনসহ উল্লিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারলে আমরা পর্যটকবান্ধব কক্সবাজার পেতে পারি।