অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া প্রকল্পের নামে টাকা উত্তোলন, সরকারি বিনামূল্যে নলকূপের বিনিময়ে টাকা আদায়, অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানান অভিযোগে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১১ নম্বর জুঁইদণ্ডি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইদ্রিচের বিরুদ্ধে অনাস্থার প্রস্তাব দিয়েছে একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য এবং সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যসহ ৯ জন ইউপি সদস্য।
১৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার, ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং ১৮ জানুয়ারি আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ করে অনাস্থা প্রস্তাব করেন তারা।
জানা যায়, জুঁইদণ্ডি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিচ গত ২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পর থেকে সব ধরনের অনৈতিক কাজকর্ম সংঘটিত করে আসছে এবং পরিষদের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। যার মধ্যে, হতদরিদ্রদের জন্য টাকার বিনিময়ে কর্মসূচির ১ কোটি টাকা, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ৪ জন হতদরিদ্র ব্যক্তির ১ বছরের জন্য বরাদ্দকৃত ১ হাজার ৪৪০ কেজি চাল, ১% ভূমি উন্নয়ন করের টাকা, স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৭৫% চাল অর্থাৎ প্রতিজনের জন্য বরাদ্দ ৪০ কেজি হতে ১০ কেজি বন্ঠন করে বাদ বাকি ৩০ কেজি চাল, হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল, সরকারি বরাদ্দের ২০টি গভীর নলকূপ বিনামূল্যে বিতরণ না করে, প্রতিটির জন্য ২০ হাজার টাকা আদায় করা, কাবিকা ভুয়া প্রকল্প দেখানোর মাধ্যমে সরকারি খাত হতে আদায়কৃত টাকা, ইউপি মেম্বারদের বরাদ্দকৃত সব বেতন-ভাতা এবং জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ ও নাগরিকত্ব সনদের ফি বাবৎ আদয়কৃত টাকা, ওয়ারিশ সনদের অতিরিক্ত ফি। এসব অর্থ তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
জুঁইদণ্ডি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিন বাবু জানান, আমরা মেম্বার নির্বাচিত হয়েছি ঠিকই কিন্তু আজও আমাদের ইদ্রিচ চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটা মাসিক মিটিংও করতে পারিনি। জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাই তাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে কিন্তু ত্রাণ সামাগ্রীসহ বিভিন্ন কার্ড আমাদের ৩/৪ টা দিয়ে বাকিগুলো চেয়ারম্যানের লালিত সন্ত্রাসবাহিনী দিয়ে বিতরণ করে যার কর জনগণের কাছে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হই। প্রতিটা ওয়ার্ডে চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসবাহিনী রয়েছে, কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকির শিকার হতে হয়।
জুঁইদণ্ডি ১,২,৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য রুবি আক্তার জানানা, আমরা আমাদের পরিষদের অধিকার পাচ্ছি না। আমাদের পরিষদের অধিকার ফিরে পেতে আমরা এই অনস্থা দিয়েছি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জুঁইদণ্ডি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইদ্রিচ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। কয়েকজন ইউপি সদস্য জোড় হয়ে বাকি ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর নকল করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমন বলেন, জুঁইদণ্ডি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইদ্রিচের বিরুদ্ধে একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।