২০১৯ থেকে অদ্যাবধি অসাধারণ মেধাবী এক শিশু অসামান্য অবদান রেখে চলছে। তার অবদান ও গৌরবময় অর্জন অতুলনীয়। একেবারে অকল্পনীয় সব কাজ করে যাচ্ছে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাবী বিনতে শফিক শিফা। তাকে এ প্রজন্মের ‘কীর্তিকন্যা’ বলেছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আরমা দত্ত এমপি।
২০২৩ সালও ছিল শিফার জন্য সাফল্যময়, কারণ সেই বছরও নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন শিফা। গত আগস্টে প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা তৃতীয় বই। সেই বইটি ক্রীড়াবিদ ও বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ সুলতানা কামালকে নিয়ে লেখা প্রথম বই। এ রেকর্ডের শুরুটা অবশ্য হয়েছিল আরও পাঁচ বছর আগেই। আইসিটি খাতে অবদান রাখার জন্য শিফা অর্জন করেছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার।
চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি কথা হয় খুদে লেখক ও প্রোগ্রামার শিফার সঙ্গে। আজ তার জন্মদিন। জানতে চাওয়া হয়- জন্মদিন নিয়ে শিফার পরিকল্পনা। উত্তরে শিফা জানায়, ‘জন্মদিন নিয়ে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে, ইচ্ছে আছে সব বয়েসিদের কাছে প্রোগ্রামিং বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়ার’।
মাত্র ৮ বছর বয়সেই প্রথম অ্যাপ নির্মাণ
তখন ২০১৯ সাল, মাত্র ৮ বছর বয়স। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, তা-ও আবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ বয়সে সাধারণত শিশুরা পড়াশোনা আর খেলাধুলাতেই ব্যস্ত থাকে। কিন্তু শিফা গড়েছেন অনন্য রেকর্ড। নিজেকে তৈরি করেছেন একজন সফল প্রোগ্রামার হিসেবে। নির্মাণ করেছেন গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মাণ করে ‘এক পলকে শেখ হাসিনা’ নামে অ্যাপ। অ্যাপটি যখন শিফা নির্মাণ করেন, তখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তেন।
অ্যাপটি নির্মাণের বিষয়ে শিফা জানায়, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে অ্যাপটি নির্মাণ করি। এই অ্যাপের মাধ্যমে সব বয়েসিরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আদর্শ জীবন সম্পর্কে জানতে পারবেন।
বর্তমানে শিফার নির্মাণ করা অ্যাপের সংখ্যা দুটি। তার নির্মাণ করা দ্বিতীয় অ্যাপের নাম ‘অদম্য শেখ রাসেল’; যা শেখ রাসেলকে নিয়ে নির্মিত প্রথম অ্যাপ। অ্যাপটি এখন আইসিটি ডিভিশনের অ্যাকাউন্টে গুগল ‘প্লে স্টোরে’ আছে।
৯ বছর বয়সে জাতীয় পুরস্কার
২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর শিফা অর্জন করেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কার। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সেই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দিনে শিফা অর্জন করেন আইসিটি ডিভিশনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার।
১০ বছর বয়সে লিখেন বই
২০২১ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রকাশিত হয় শিফার লেখা প্রথম বই। এখন পর্যন্ত তার লেখা বইয়ের সংখ্যা তিন। বইগুলো হলো- ‘এক পলকে শেখ হাসিনা Sheikh Hasina at a glance’, ‘অদম্য শেখ রাসেল Indomitable Sheikh Russel’ এবং ‘দুর্দম্য সুলতানা কামাল খুকী Unconquerable Sultana Kamal Khuki’। এর মধ্যে ‘দুর্দম্য সুলতানা কামাল খুকী’ বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ সুলতানা কামাল খুকীকে নিয়ে লেখা প্রথম বই।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
লেখালেখি ও আইসিটি- এই দুই খাতেই কাজ করছেন আরাবী বিনতে শফিক শিফা। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। উত্তরে শিফা জানান, দুই খাতেই নিয়মিত কাজ করবেন। আর তার স্বপ্নের একটি কাজ দ্রুতই উন্মোচন হবে।
ব্যতিক্রমী শিফা
উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার একমাত্র সন্তান হয়েও নিজের পছন্দে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ব্যতিক্রমী শিফা। এ বয়সেই নিজের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে তিন শতাধিক বইয়ের সংগ্রহ রেখেছেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। করোনার সময় যে শিশুরা ডিভাইসের অভাবে অনলাইন ক্লাস করতে পারেনি, শিফা তার পুরস্কারের প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে তাদের মাঝে ডিভাইস বিতরণ করেছেন। এ বিষয়ে শিফা বলেন, ‘এদেশে আমার জন্ম। এদেশেই তো আমার বেড়ে ওঠা। আমি তো সবার’।
উল্লেখ্য, শিফা বর্তমানে ময়মনসিংহের একটি সরকারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছেন। বাবার চাকরির সুবাদে তার বেড়ে ওঠা ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার অফিসার্স কোয়ার্টারে। তাছাড়া শিফার শৈশবের বর্ণিল সময়গুলো অতিবাহিত হয়েছে মামা-খালাদের সঙ্গে নরসিংদীর নানা বাড়িতে। তবে তার পৈত্রিক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার আহরন্দ-মহিউদ্দিননগর গ্রামে।