ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের পর প্রথম দিনের লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও খুব শিগগিরই ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ার বাজার। গতকাল মঙ্গলবার সূচকের উত্থানের পাশাপাশি লেনদেন ছাড়িয়েছে ১১শ কোটি টাকা। আগের দিনও হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাজারে ফ্লোরপ্রাইস তুলে দেওয়া নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আতঙ্ক কাজ করছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। বাজারে ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও সক্রিয় রয়েছে। ফলে বাজারে লেনদেন বাড়ছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ এ প্রসঙ্গে গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ফ্লোরপ্রাইস দিয়ে বাজারকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লোরপ্রাইস তুলে দেওয়ার ফলে বাজার এখন বাজারের গতিতে চলবে। তিনি বলেন, বাজার এখন ভালোর দিকে যাচ্ছে—এটাই হওয়া উচিত ছিল।
ডিএসই তথ্য বলছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২১.৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬২৭৬.২৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ৩.৪০ পয়েন্ট বেড়ে ১৩৮৪ পয়েন্টে ও বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১০.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ২১৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এই বাজারে ১ হাজার ১৭৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। যা গত বছরের ৫ জুনের পর বাজারে সর্বোচ্চ লেনদেন। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪২ কোটি ২২ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ১৩৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। গতকাল ডিএসইতে লেনদেনকৃত মোট কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ২২৭টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টির দর।
দেশের প্রধান এই শেয়ার বাজারে গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি হলো: ফরচুন সুজ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ওরিয়ন ইনফিউশন, দেশবন্ধু পলিমার, ব্র্যাক ব্যাংক, বিডি থাই অ্যালুমেনিয়াম, রূপালী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স এবং ফু-ওয়াং ফুড।
অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৬ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। গতকাল সিএসইতে লেনদেনকৃত মোট ২৭৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৬টির, কমেছে ১৫০টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির দর।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ৩৫টি কোম্পানি বাদে সব কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহার করে নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পরে গত সোমবার আরও ২৩টি কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন মাত্র ১২টি কোম্পানির ওপর ফ্লোরপ্রাইস বহাল রয়েছে। ফ্লোরপ্রাইস বহাল থাকা কোম্পানিগুলো হলো: আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বিএটিবিসি, বেক্সিমকো লিমিটেড, বিএসআরএম লিমিটেড, গ্রামীণফোন, ইসলামী ব্যাংক, খুলনা পাওয়ার, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ওরিয়ন ফার্মা, রেনেটা, রবি ও শাহজিবাজার পাওয়ার।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারি ও পরবর্তী সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে শেয়ার বাজারে পতন ঠেকাতে গত চার বছরে কয়েক দফায় ফ্লোরপ্রাইস আরোপ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। প্রথমবার ২০২০ সালে মার্চে ফ্লোরপ্রাইস আরোপ করলেও তুলে নেওয়া হয় ২০২১ সালের জুলাইয়ে। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে সর্বশেষ ২০২২ সালের জুলাইয়ে আবারও ফ্লোরপ্রাইস আরোপ করা হয়। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ফ্লোরপ্রাইস তুলে দেওয়া হচ্ছে।