৫৩ কিলোমিটারের একটি আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ চলছে ১৮ বছর ধরে। এই দীর্ঘ সময়ে নানামুখী জটিলতায় সড়কটির নির্মাণকাজ বেশ কয়েকবার থেমে থেমে শুরু হয়েছে ঠিকই তবে এখনো শেষ হয়নি। মহাসড়কটির কাজ চলমান থাকলেও হস্তান্তরের আগেই নানান ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
ধস নেমেছে সড়কের বিভিন্ন অংশে। দুই দশক ধরে নির্মাণাধীন সড়কটির নাম নাটোর-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক। নাটোর সদর থেকে শুরু হয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা চিরে নওগাঁ অভিমুখে গেছে এই মহাসড়ক। ৫৩ কিলোমিটারের মধ্যে সড়কের নাটোর অংশের ২৪ কিলোমিটারের কাজ করছে মীর হাবিবুল আলম বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই অংশে ছয়টি সেতু রয়েছে। সড়ক নির্মাণ শেষ না হতেই সেতুগুলো চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
মহাসড়কের যেসব স্থানে ত্রুটি
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নলডাঙ্গা উপজেলার বীরকুৎসার কুচামারী সেতুর উত্তরে ৩ ফুট গভীর হয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। এখানে ১০০ ফুট অংশ ধ্বসে যাচ্ছে। সড়কের ভাঙা অংশের একটি সেতুর ঢালে দেবে গেছে। ফাটল ধরেছে মধ্যপুল সেতুর গাইড ওয়ালের ঢালেও। মাধনগর এলাকা অংশে সড়কের কয়েকটি ঢাল ধসে গেছে। ফাটলের পর ধ্বস শুরু হয়েছে বীরকুৎসা বাজারের পশ্চিমের প্রায় ৫০ ফুট অংশে। একই স্থানে রেলস্টেশনের পশ্চিমেও সড়কের ঢাল ধসে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ
যেসব স্থানে ফাটল ধরেছে সেগুলো রোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে ধ্বসে পড়া রোধে কয়েকটি স্থানে মাটি ফেলে ধসে রক্ষার চেষ্টা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। সড়কের নিচের গোড়া থেকে মাটি কেটে ব্যবহার করায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কের পাশে কুচামারী সেতু সংলগ্ন বাসিন্দা সালেহা বেগম ইত্তেফাককে জানালেন, তার বাড়ির কাছে যে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে সড়কের একাংশজুড়ে দেবে গেছে। এর আগেও তিন দফায় ভেঙে ধ্বসে পড়েছে। সারবোঝাই ট্রাক উল্টে যাওয়াসহ ঘটেছে কয়েকটি ছোট বড় দুর্ঘটনা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, নাটোর, নওগাঁ আঞ্চলিক এই মহাসড়কের কাজ প্রথম শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। সেসময় নাটোর থেকে নওগাঁ পর্যন্ত ৫৩ কিলোমটিারে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা। কাজ শুরু হয়েছিল দুই বছর পর ২০০৭ সালে। তখন মাটি ফেলে সড়কের অবয়ব তৈরি করা হয়। কিন্তু হাইড্রোলজি সমীক্ষার পর সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর ঠিক ৭ বছর পর সড়ক নির্মাণের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আরও ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। নির্মাণ কাজ শেষের সময় বেধে দেওয়া হয় ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই সময়ের মধ্যে নওগাঁ অংশের ২৯ কিলোমিটার সড়কের কাজ করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হলেও নাটোর অংশের ২৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই দফায় সময় বাড়িয়ে নিয়েছে। তবু এখন পর্যন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি।
মীর হাবিবুল আলম বিল্ডার্সের স্বত্বাধীকারি মীর হাবিবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, বেশ কিছুিদন ধরে আঞ্চলিক এই মহাসড়কটির নির্মাণ কাজ করছেন তারা। গত বর্ষায় সড়কের কিছু কিছু স্থানে ধসে গেছে। সেগুলোই এখন মেরামত করা হচ্ছে।
নাটোর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান সরকার ইত্তেফাককে বলেন, মহাসড়কের নাটোর অংশের ২৪ কিলোমিটারের মধ্যে কিছু কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু স্থান ধসেও যাচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব ত্রুটি মেরামত করে দিচ্ছে। কাজটি শতভাগ সম্পূর্ণ হওয়ার পর হস্তান্তর নেওয়া হবে।