বিশ্ব হাতের লেখা দিবসকে কেন্দ্র করে মনসিজ আর্ট একাডেমির আয়োজনে ও পিডিলাইট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (ফেবিকল, এমআরগ্লু) ও মনসিজ ক্র্যাফটের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ক্লে কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ক্যাফে নুরের প্রাঙ্গণে ভিন্নধর্মী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালার স্লোগান ছিল ‘মৃত্তিকায় লিখি নিজের প্রিয় নাম’।
ঢাকার তেজগাঁও নাখালপাড়ার শিশু শিল্পীরা ও মনসিজ আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করে। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিগ্রাফিস্ট মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, শিল্পী সাদিয়া শারমিন ও শিল্পী শামীম হোসাইন।
কর্মশালার আয়োজক ও অন্যতম প্রশিক্ষক শিল্পী সাদিয়া শারমিন বলেন, সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ মৃত্তিকা দিয়ে তৈরি। এমন কি আমাদের খাদ্য থেকে শুরু করে ঔষধ, শারীরিক বৃদ্ধি, মনস্তাত্ত্বিক অগ্রগতি , ইতিবাচক বিকাশ, চিকিৎসা সব কিছুতেই মাটি হচ্ছে প্রধান ভিত্তি। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ শিশুরাই মাটিতে কিনবা ঘাসে পা ফেলতে চায় না। মাটিতে ধুলোবালি, ঠাণ্ডা লেগে যাওয়া কিনবা জীবাণুর ভয় এমন আতংক তারা পরিবার তথা সামাজিক ভাবেই পেয়ে থাকে। তাই শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের কথা মাথায় রেখে মাটির শিশুরা মাটির পাত্রেই মাটি দিয়ে নিজের নাম লিখবে এমন চিন্তাধারা থেকেই আমাদের এই ক্লে কর্মশালার আয়োজন।
ক্যালিগ্রাফিস্ট মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান ক্লে কর্মশালা সম্পর্কে বলেন, আমাদের হাতের লেখা আমাদের ব্যক্তিত্বের প্রতিবিম্ব। আর সুন্দর এই লেখা বা ক্যালিগ্রাফি করতে গিয়ে পেন্সিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের কলম যেমন কালির কলম, বাঁশের কলম ব্যবহার করা হয়েছে। আসলে আমাদের লেখার শৈলী ও শব্দের নান্দনিকতা নিয়ে কাজ থাকে।কিন্তু লেখার মাধ্যম হিসেবে মাটি যে এত চমৎকার একটা মাধ্যম হতে পারে তা এই কর্মশালার শিশুদের শিল্পকর্ম না দেখলে জানতেই পারতাম না। মূলত মানসিক বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পেতে সুন্দর হাতের লেখা বন্ধুর মতো কাজ করে। আর মাটি দিয়ে এই সৃজনশীল হাতের লেখা শিশুদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রশিক্ষক শিল্পী শামীম হোসাইন প্রশিক্ষণার্থীদের ক্লে সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে বলেন, ক্লে বা মাটি শিশুদের সৃজনশীল কাজের অন্যতম একটি মাধ্যম । ইলেকট্রনিক ডিভাইজ ভিত্তিক এই যুগে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা প্রায় সময়ই আতংকে থাকি। এই আতংক দূরীকরণ ও একটি বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানসিকতা গড়ে তোলার জন্য শিশুদেরকে নিয়মিত সৃজনশীল কর্মশালায় সম্পৃক্ত রাখা উচিত। এছাড়া ভবিষ্যতে দেশ বিদেশে টেরাকোটা, ভাষ্কর্য, প্রদর্শিত যে কোন কারুশিল্পকে বানিজ্যিক শিল্প রূপে প্রদানের জন্য ক্লে এর কাজ প্রাথমিক ধাপের গুরুত্ব বহন করবে।
মূলত মানুষ হিসেবে মাটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা আত্মিক। তাই যে কোন ভাষা জানার আগে মাটির ভাষা জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন মাটির উপর ভিত্তি করে ছোট্ট একটা গাছ বড় হওয়া থেকে শুরু করে ফল-ফুলে পরিপূর্ণ হয় তেমনি শিশুদের মাটির শিল্পকর্মের মধ্য দিয়ে তাদের মানসিক বৃদ্ধির ও ইতিবাচক প্রকাশের জানান তারা নিজেরাই একদিন দেবে।