ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের পর বিদায়ি সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিনই বাজারে বড় দরপতন হয়েছে। কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ফ্লোরপ্রাইস থাকার কারণে অনেক কোম্পানির শেয়ার দর একই জায়গায় আটকে ছিল। এ সময় অনেক বিনিয়োগকারী তাদের প্রয়োজনে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেনি। ফলে ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহারের পর একদিকে যেমন শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়েছে, তেমনি অনেক শেয়ারের দর ও সমন্বয় হয়েছে।
বিশিষ্ট পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ফ্লোরপ্রাইস (সর্বনিম্ন মূল্যস্তর) আরোপ করা কোন সমস্যার সমাধান হয়। এখন ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাজার খুব শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তিনি বলেন, যারা মার্জিন লোন নিয়ে শেয়ার কিনেছে, তাদের বিক্রির কারণেই সূচক কমেছে বলে আমার মনে নয়। তবে কারেকশন যা হওয়ার গত সপ্তাহে হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছি।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৮০ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া, বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ১৫ দশমিক ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৪.৬০ পয়েন্টে ও শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৩৬ দশমিক ০১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৫২ পয়েন্টে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৮০ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে। সূচক কমলেও বিদায়ি সপ্তাহে এই বাজারে লেনদেন বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৭২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ হিসেবে প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ২৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। বিদায়ি সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনকৃত মোট
৪০৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৪টির, কমেছে ৩০৮টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টির দর। বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। যা গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৩২ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।
বিদায়ি সপ্তাহে টাকার অঙ্কে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি হলো: বিডি থাই অ্যালুমেনিয়াম, ওরিয়ন ইনফিউশন, ফরচুন সুজ, ফু-ওয়াং ফুড, দেশবন্ধু পলিমার, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, লাফার্জাহোলসিম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, ব্র্যাক ব্যাংক এবং সি পার্ল বিচ রিসোর্ট।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ দেড় বছর পর গত ১৮ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ৩৫টি কোম্পানি বাদে বাকি সব কোম্পানির শেয়ারের ওপর থেকে ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহার করে নেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরপর ২১ জানুয়ারি আরো ২৩টি কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোরপ্রাইস প্রত্যাহার করা হয়। এখন মাত্র ১২টি কোম্পানির ওপর ফ্লোরপ্রাইস বহাল রয়েছে।