স্যুটকেসবন্দী লাশের রহস্য উদ্ঘাটন

ফরিদপুর শহরের নতুন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় একটি স্যুটকেসে পাওয়া লাশের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের করিডোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম।

‘ওই নারী (যৌনকর্মী) প্রশিক্ষিত খুনি ছিলেন না। এ জন্য লাশটি আড়াল করতে অভিনব এই পদ্ধতি অবলম্বন করেন তিনি। ওই নারী যে রিকশা ও মাহেন্দ্রটি ব্যবহার করেছেন তাদের চালকদের আটক করা হয়েছে। তাদেরকে এই হত্যা মামালায় সাক্ষী করা হবে। রোজিনাকে গত সোমবার দিবাগত রাত ৩টার সময় ঢাকার (রাজধানী) জুরাইন এলাকা থেকে কদমতলী থানা পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়’
- মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম
পুলিশ সুপার

স্যুটকেসে পাওয়া লাশের পরিচয়- মিলন প্রামাণিক (৩৯)। পাবনা সদরের নতুন গোহাইবাড়ী মহল্লার কাশেম প্রামাণিকের ছেলে তিনি। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট এলাকার একই ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন তিনি।

‘রোজিনাকে আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দিলে পরবর্তীতে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’
- সুজন বিশ্বাস
এসআই (মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা)
কোতোয়ালি থানা, ফরিদপুর

হত্যার ঘটনায় এসআই মোহাম্মদ শামীম হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে গত রোববার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মিলন প্রামাণিকের সঙ্গে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌন পল্লীতে রোজিনা আক্তার ওরফে কাজল (৩২) নামে এক নারীর সম্পর্ক ছিল। এই সুবাদে রোজিনা বিভিন্ন সময়ে মিলনের কাছে টাকা জমা রাখে। এই টাকা ফেরত না দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে গত শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে রোজিনার ঘরে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধে মিলনকে হত্যা করা হয়। পরে মিলনের মাথা ও পা পেচিয়ে একটি লাগেজে (স্যুটকেস) ভরেন এবং একটি রিকশায় করে গোয়ালন্দ বাস স্ট্যান্ডে এসে সেখানে একটি মাহেন্দ্র ভাড়া করে ফরিদপুর বাস স্ট্যান্ডে নিয়ে আসেন।

আরও জানানো হয়, ঢাকাগামী বিকাশ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কেটে স্যুটকেসটি বাসের মালপত্রের লকারে তোলা হয়। বাস ছাড়ার সময় ওই নারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ সময় বাসটির সহযোগীরা (কন্ট্রাক্টর ও হেল্পার) স্যুটকেসটি বাসস্ট্যান্ডের গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টারের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে রেখে দেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘ওই নারী (যৌনকর্মী) প্রশিক্ষিত খুনি ছিলেন না। এ জন্য লাশটি আড়াল করতে অভিনব এই পদ্ধতি অবলম্বন করেন তিনি। ওই নারী যে রিকশা ও মাহেন্দ্রটি ব্যবহার করেছেন তাদের চালকদের আটক করা হয়েছে। তাদেরকে এই হত্যা মামালায় সাক্ষী করা হবে। রোজিনাকে গত সোমবার দিবাগত রাত ৩টার সময় ঢাকার (রাজধানী) জুরাইন এলাকা থেকে কদমতলী থানা পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই সুজন বিশ্বাস বলেন, ‘রোজিনাকে আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দিলে পরবর্তীতে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, ‘স্যুটকেসে লাশ পাওয়ার ঘটনা সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার দুই দিনের মধ্যে লাশ শনাক্ত ও হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপ্স) শৈলেন চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন, ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ওসি মো. হাসানুজ্জামান, কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আব্দুল গফফার, পুলিশ ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) তুহিন লস্কর, পুলিশ পরিদর্শক আবু তাহের, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই সুজন বিশ্বাস ও এই মামলার বাদী এসআই মোহাম্মদ শামীম হাসান।