পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার হত্যার প্রধান আসামি বর্তমান চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) আনুমানিক রাত ৩টার দিকে র্যাবের এক যৌথ অভিযানে বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানা এলাকা থেকে আটক করা হয় তাদের।
মঙ্গলবার কুড়িয়ানায় মিঠুন ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্য দিবালোকে কুড়িয়ানা বাজারের রাস্তায় শেখরকে পিটিয়ে হত্যা করে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যার ঘটনায় নিহত শেখর সিকদারের স্ত্রী মালা রানী মণ্ডল হামলাকারী মিঠুন হালদারসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় মিঠুনের ভাই শংকর হালদারসহ চারজন এজাহারভূক্ত আসামীকে নেছারাবাদ থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করে। হত্যার মূল হোতা মিঠুন হালদার তার প্রধান সহযোগী শংকর, স্বাধীন হালদার, বাবুল হালদারসহ মোট ছয়জন এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বুধবার সকালে পুলিশ সুপারসহ জেলা, সার্কেল ও থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ সুপার স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আহ্বান জানান। এর আগে হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এদিন স্থানীয় জনতা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রকাশ্য দিবালোকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুন শেখর কুমার সিকদাররের উপর দলবল নিয়ে হামলা চালায় চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার ও তার দলবল। স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়া নিয়ে মতবিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়।
নেছারাবাদ থানার ওসি গোলাম সরোয়ার জানান, ক্রীড়া অনুষ্ঠান নিয়ে মতবিরোধ ছাড়াও এলাকায় প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার ও নিহত সাবেক চেয়ারম্যান শেখর সিকদারের মাঝে কোন্দল ছিল। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকেই এই কোন্দলের সূচনা।