মুহাম্মদ দিদারুল আলম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে কালপুরুষ নাট্য সম্প্রদায়ের ৩ দিনব্যাপী বার্জার কালপুরুষ নাট্যোত্সব ২০১৯ শেষ হয়েছে। গত ২৮ জুন জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ৩ দিনব্যাপী উত্সবের উদ্বোধন করেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন।
কালপুরুষ সভাপতি শুভ্রা বিশ্বাসের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মোসলেম উদ্দিন সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু ও চট্টগ্রাম গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতি ফোরাম খালেদ হেলাল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কালপুরুষের সাধারণ সম্পাদক মিশফাক রাসেল।
প্রথমদিন মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হয় নতুন প্রযোজনা নাটক ‘নির্ভার’। নাটকে উঠে এসেছে নগর কেন্দ্রিক জীবন। নাটকটির কাহিনি, আবহ ও নির্দেশনায় ছিলেন শান্তুনু বিশ্বাস। এটির মাধ্যমে ১৯ বছর পর মঞ্চে অভিনয়ে ফেরেন নাট্যজন শান্তুনু বিশ্বাস। এছাড়াও অভিনয় করেন শুভ্রা বিশ্বাস ও বাহাউদ্দিন মিরন।
এদিকে মুক্তমঞ্চে প্রথমদিন দলীয় সংগীত পরিবেশন করে অভ্যুদয় সংগীত অঙ্গন, আবৃত্তি পরিবেশন করেন রাশেদ হাসান, দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে ওড়িশি অ্যান্ড টেগর ড্যান্স মুভমেন্ট সেন্টার।
কালপুরুষ নাট্যোত্সবের দ্বিতীয় দিনে মঞ্চস্থ হয় শান্তুনু বিশ্বাস অনুবাদিত ‘নাট্যত্রয়ী’। এটির নির্দেশনা দিয়েছেন শুভ্রা বিশ্বাস। মঞ্চস্থ হওয়া নাটক ৩টি হলো যথাক্রমে ‘মাতৃচরিত’, ‘প্রার্থী’ ও ‘খোলা হাওয়া’। ‘মাতৃচরিত’ নাটকটিতে অভিনয় করেন শুভ্রা বিশ্বাস, মিতাশা মাহরীন, মিশফাক রাসেল, ফারজানা মুনমুন নীলা। ‘প্রার্থী’ নাটকে অভিনয় করেন শুভ্রা বিশ্বাস, প্রবীর পাল, ফারজানা মুনমুন নীলা। অন্যদিকে ‘খোলা হাওয়া’ নাটকে অভিনয় করেন শুভ্রা বিশ্বাস, সাহিদ উদ্দীন আহমেদ, মিশফাক রাসেল ও ফারজানা মুনমুন নীলা। ৩টি নাটকের কাহিনিই আবর্তিত হয়েছে আধুনিক জীবনের নানা সমস্যা নিয়ে। নৈরাশ্যের চিত্র ও কৌতুকবোধ সরল-স্বচ্ছতায় উদ্ভাসিত হয়েছে।
দ্বিতীয় দিনে মুক্তমঞ্চে গণসংগীত পরিবেশন করে নরেন আবৃত্তি একাডেমি, আবৃত্তি পরিবেশন করেন সঞ্জীব বড়ুয়া, সাবিরা সুলতানা বীনা, হাসান জাহাঙ্গীর, মোজাহিদুল ইসলাম ও শ্রাবণী দাশগুপ্তা। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ড্যান্স।
নাট্যোত্সবের সমাপনী দিন সন্ধ্যায় মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় থিয়েটারের কিংবদন্তী বাদল সরকারের মূল নাটকের ছায়া অবলম্বনে কালপুরুষ নাট্য সম্প্রদায়ের ‘যদি আর একবার’।
নাটকটি নির্দেশনায় ছিলেন শুভ্রা বিশ্বাস। এটি একটি স্যাটায়ারধর্মী নাটক। একদল মানুষ, যাদের পথ এসে ঘটনাক্রমে মিলিত হয়েছিল সমুদ্রতীরের এক অবকাশযাপন নিবাসে। অতসী, করুণা, বনলতা, রতিকান্ত, সঞ্জয়, ব্রিজলাল একত্র হয়েছিলেন ইনানি সমুদ্রতীরে বনানী শ্রান্তি নিবাসে। যে নিবাসের ম্যানেজার হলেন সত্যসিন্ধু। পরস্পরকে চেনা-জানার এক পর্যায়ে এক একটি চরিত্র অপরের আপাতমনোহর যাপনে ঈর্ষা কাতর হয়ে পড়েন এবং নিজেদের যাপিত জীবনকে অদল-বদলের এক ফ্যান্টাসিতে মেতে ওঠেন। এই ফ্যান্টাসির মূল কারিগর হয়ে মঞ্চে হাজির হয় জ্বিন।
নিজের জীবন নিয়ে অতৃপ্তি, অনুযোগ আর অভিযোগের স্রোতে এদের যা ছিল তা ঘুঁচে যায় যা নেই তার ঝোঁকে। এরা নতুন চোখে সাজাতে চায় অন্য এক জীবন। সকলেই ভাবতে শুরু করেন, আর একবার, যদি আর একবার সাজানো যেত, শুরু করা যেত। এভাবেই নাটকটি এগিয়ে চলে।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জীব বড়ুয়া, সাহিদ উদ্দীন আহমেদ, মিশফাক রাসেল, প্রবীর পাল, করবী দাশ, মিতাশা মাহরীন, শুভ্রা বিশ্বাস ও রাকিবুল কামাল।
নাটকটির মঞ্চসজ্জা করেছেন সুব্রত বড়ুয়া রনি, আলোক পরিকল্পনায় মোস্তফা কামাল যাত্রা, আবহসংগীতে দীপঙ্কর দাশ, আবহসংগীত নিয়ন্ত্রণে দিদারুল আলম, পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন আমিনা রহমান লিপি। নাটকটির প্রযোজনা উপদেষ্টা ছিলেন শান্তুনু বিশ্বাস।
শেষদিন মুক্তমঞ্চে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে রক্ত করবী, আবৃত্তি পরিবেশন করেন দুলাল দাশ গুপ্ত ও মিলি চৌধুরী এবং দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে মুভমেন্ট।