নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা ইপিক গ্রুপের বার্ষিক বনভোজনের অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের দেওয়া খাবার খেয়ে কয়েক শত শ্রমিক, কর্মচারী ও তাদের স্বজনরা অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদের মধ্যে ৫০-এর অধিক শিশুও রয়েছে। বর্তমানে তারা আদমজীস্থ আলিফ জেনারেল হাসপাতাল, খানপুর ৩০০ হাসপাতাল, সদর জেনারেল হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ফ্যাক্টরির ভেতর অনুষ্ঠানটির আয়োজন হয়।
জানা গেছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ের একপর্যায়ে দুপুরে কারখানাটির পক্ষ থেকে উপস্থিত কর্মকর্তাসহ তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের খাবার দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে খাবার খেয়ে বিকাল থেকে তারা অসুস্থ হয়ে বমি, পেটব্যথা ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন। পরে দ্রুতই তাদের নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ইপিক-৪ প্রতিষ্ঠানের অপারেটর ঝুমা বলেন, আজকে আমাদের প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠান ছিল। দুপুর থেকে আমাদের খাবার দেওয়া হয়। বাসায় এনে ঐ খাবার খাওয়ার কিছু সময় পর আমার শিশু পুত্র বমি করতে থেকে। কয়েক বার করার পর ছেলে আমার অসুস্থ হয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। শত শত শ্রমিক অসুস্থ হয়ে গেছে এই খাবার খেয়ে।
খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়া কামাল নামের একজন কোয়ালিটি অফিসার জানিয়েছেন, দুপুরের খাবার খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ পরই স্টেজের সামনে তিন বার বমি করেন। পরবর্তী সময়ে তার সহকর্মীরা তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ পুলস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ইপিক গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রডাকশন ম্যানেজার ইমরান হোসেন জানান, ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার এক খাবার ব্যবসায়ী খাবারগুলো সাপ্লাই করেছে। এই খাবার খেয়ে আমি এবং আমার ছেলেও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসছি। আজকের অনুষ্ঠানে ৯ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক, কর্মচারী-কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ অসুস্থ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যারা খাবার সাপ্লাই করেছে তাদের কোনো ফল্ট থাকতে পারে। স্থানীয় আলিফ জেনারেল হাসপাতালের ডিউটি ডা. তারিকুল ইসলাম জানান, ফুড প্রয়েজিং থেকে সমস্যাটা হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আমাদের এখানে ১০০ জনের বেশি রোগীকে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। ৮০ জনের মতো ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েক জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
ওদিকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ৫৫ জন ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ৫৯ জন অসুস্থ শ্রমিককে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জরুরি বিভাগের চিকিত্সক। ৩০০ শয্যা থেকে পাঁচ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইপিক গার্মেন্টসের জিএম (মহাব্যবস্থাপক) মিজানুর রহমান জানান, শ্রমিকদের বিনোদন দিতে গত ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর বার্ষিক ইপিক উত্সব পালন করা হচ্ছে। শ্রমিকরা সপরিবারে এই উত্সব উপভোগ করে থাকে। শ্রমিকদের জন্য ভালো খাবার, কনসার্ট ও খেলাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তাদের বার্ষিক কাজের মূল্যায়নস্বরূপ অ্যাওয়ার্ডও দেওয়া হয়। শ্রমিকরা সারা দিন উত্সবে মেতে দিনটা উপভোগ করে। সকাল থেকেই শ্রমিকরা উত্সবে মেতে ছিল। দুপুরের খাবার খেয়ে সবাই বিকাল ৫টা পর্যন্ত কনসার্ট উপভোগ করছিল। প্রতীক হাসান, কনা ও বিন্দুসহ ভালো শিল্পীকে আনা হয়েছিল। তাদের গানের সময় শ্রমিকরা খুব নাচানাচি হইহুল্লোড় করে। তখন ঐখানেই বেশ কয়েক জন বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
সন্ধ্যা থেকে একে একে আরো বেশ কিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের আলিফ হাসপাতাল ও জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়। কেউই স্থায়ীভাবে ভর্তি ছিল না। চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হয়ে সঙ্গে সঙ্গে আবার ফিরে এসেছে। আদমজী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মসিউদ্দিন মেজবাহ জানান, ইপিক গার্মেন্টসের বার্ষিক অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে দুপুরের খাবারের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। সন্ধ্যার পরে শ্রমিকরা অসুস্থ হতে থাকে। পরে তাদের কয়েক জনকে বেপজা হসপিটালে পাঠানো হয়। বাকিদের নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনেছি। খাবার খেয়ে ঐ গার্মেন্টসের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমরা তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।