সাভারে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে সবুজ (৩০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে পৌর এলাকার কাতলাপুর মহল্লার ইসকন মন্দিরের ভিতরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সবুজ নিলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার আইসক্যান গ্রামের নিখিলের ছেলে। সে সাভারের উলাইল ভান্ডারীমোড় এলাকায় ভাড়া থেকে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা অনিশ্চয়তার সঙ্গে জানায়, সবুজ রাতে মন্দিরের ভিতরে ঢুকে নাকি মোবাইল চুরি করেছিলো। এ ঘটনায় তাকে আটকে রেখে মন্দিরের লোকজন গণপিটুনি দিলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে সকালে মৃত ভেবে তাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ভ্যানচালক মোঃ আব্বাস বলেন, ‘সকাল ৮টার দিকে আমি বাসা থেকে বের হয়ে কাজে যাচ্ছিলাম। এ সময় ইসকন মন্দিরের কিছু লোক এক যুবককে অচেতন অবস্থায় মন্দিরের পূর্বপাশের একটি ময়লার ডোবায় ফেলে দেয়। পরে উপস্থিত অন্যদের নিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃতু ঘোষণা করে।’
এ ব্যাপারে কাতলাপুর কানাই লাল জিউ বিগ্রহ মন্দিরের (ইসকন মন্দির) সাধরণ সম্পাদক নিতাই দয়াল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকালে সবুজ নামের ওই যুবক আমাদের মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করে ভক্তদের কক্ষে থাকা ৬টি মোবাইল চুরি করে। এ সময় ভক্তবৃন্দ ও মন্দিরের লোকজন তাকে ধরে মারধর করলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় আমি তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। পরে জানতে পারি সে মারা গেছে।’
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ আমজাদুল হক বলেন, ‘সবুজ নামে এক যুবককে অজ্ঞান অবস্থায় হাসাতালে আনা হয়। এ সময় আমরা পরীক্ষা করে দেখি সে মারা গেছে। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’
আরও পড়ুন: আগৈলঝাড়ায় নিখোঁজের একদিন পর ডোবা থেকে ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, ‘নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মন্দিরের ভিতরে ঢুকে মোবাইল চুরি করায় তাকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু