ভারত বিরোধীতার নামে চলছে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র

বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রাকে বিঘ্নিত করতে চলছে নানা ষড়যন্ত্র। বিদেশের মাটিতে বসে সেই ষরযন্ত্রে সামিল হয়েছেন বাংলাদেশেরই কয়েকজন স্বার্থান্বেষী। দেশের জনগণের কাছে তারা স্বাধীনতাবিরোধী, দেশবিরোধী ও উন্নয়নবিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত। তাদের অনেকেই আবার পেয়েছেন পাকিস্তানের চিহ্নিত দালালের অ্যাখ্যা। চীনের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে তাদের অনেকের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশকে নিয়ে কটূক্তি করাই তাদের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের বহু আগ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছিলেন পিনাকী ভট্টাচার্য, মাহমুদুর রহমান, নুরুল কবির,  গোলাম সারওয়ার, রওশন হক, জুলকারনাইন সায়ের, ইলিয়াস হোসেন ও কনক সারোয়ারেরা। এই স্বঘোষিত দেশপ্রেমীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের। মৌলবাদীদের উসকানি দিয়ে তারা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট করার ষরযন্ত্রে লিপ্ত। চালাচ্ছে দেশবিরোধী অপপ্রচার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করতে গিয়ে তার বারবার অপপ্রচার চালিয়েছেন ভারতের বিরুদ্ধে। তবে তাদের এ অপপ্রচারে কান না দিয়ে উৎসবের মেজাজে ভোট দিয়ে ফের আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় এসেছে দেশের মানুষ। তারা অবরোধের ডাক দিলেও সাড়া মেলেনি, তাদের জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতিকেও প্রত্যাখান করেছে। এতে হতাশ হয়ে অপপ্রচারের মাত্রা আরও তীব্র করেছে স্বাধীনতাবিরোধী এ শক্তি। বিদেশের মাটিতে বসে অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশের সুনাম নষ্ট করছে। 

দেশবিরোধী অপপ্রচার করা এই গোষ্ঠীর একজন পিনাকী ভট্টাচার্য। পেশাজীবনে নিজেকে চিকিৎসক দাবি করলেও মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের আবেগে আঘাত করাই তার কাজ। ভোট এলেই তারেক রহমানের হয়ে প্রচারে নামেন তিনি। উসকানিমূলক অপপ্রচারের জন্য কূখ্যাত এ ব্যক্তির বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। গ্রেপ্তারি এড়াতে ২০১৯ সালে ব্যাংকক হয়ে ফ্রান্সে পাড়ি জমান এই বাংলাদেশি। এরপর সেখানে আশ্রয় নিয়ে নিয়মিত অপ্রচার চালাচ্ছেন। অভিযোগ আছে, বিএনপি ছাড়াও পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা অর্থ ও অন্য সুবিধা পাচ্ছেন তিনি। বিনিময়ে সামাজিক গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে মৌলবাদীদেরও উতসাহিত করছেন।

এ গোষ্ঠীর আরেকজন মাহমুদুর রহমান। ২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে তিনি জাতীয় বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এক সময়ে বামপন্থী রাজনীতি করতেন। সে কারণে চীনের সঙ্গে রয়েছে তার দহরম-মহরম। সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বেজিংয়ের এজেন্ট হিসাবে কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

চীনপন্থী সাবেক বাম নেতা নূরুল কবীর। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে মিলে অনির্বাচিত সরকারকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রাখার নীল নকশার রুপকার ছিলেন ‘দ্য নিউ এজ’ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে তারও রয়েছে গভীর সম্পর্ক। চিরকালই বাংলাদেশের উন্নয়নবিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে আসা এই ব্যক্তি ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে গিয়ে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযোদ্ধাদেরও অসম্মান করেছেন। দেশের সার্বভৌমত্বকেও অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেখা গেছে তাকে।

দেশবিরোধী অপপ্রচারের আরেক খলনায়ক জুলকারনাইন সায়ের খান, ওরফে সামিউল আহমেদ খান, ওরফে সামি। নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জর্জরিত তিনি। নানা সময়ে ভুয়া পরিচয় দিয়ে অর্থ উপার্জনেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিদেশের মাটিতে বসে চালিয়ে যাচ্ছে অপপ্রচার। যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রিত ইলিয়াস হোসেনকেও একই ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। সাংবাদিক ড. কনক সরওয়ারও রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। নানা ষরযন্ত্রে লিপ্ত এ মানুষগুলো দেশের সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে দেশের অর্থনীতিতে কীভাবে বিপর্যয় ডেকে আনা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলছেন। সারা দেশে অশান্তি সৃষ্টির জন্য প্ররোচনাও দিতে দেখা গিয়েছে তাদের।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অবদান সর্বজনবিদিত। দুই প্রতিবেশি বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই নিজেদের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও মজবুত করেছে। মানুষের জীবনযাত্রা আরও সুন্দর করতে দুই দেশ একসঙ্গে লড়াই করছে। কিন্তু মৌলবাদীর মদদপুষ্ট স্বার্থান্বেষি কিছু দেশবিরোধী শক্তি বাংলাদেশের যাবতীয় উন্নয়নের বিরোধিতায় নেমেছেন। বিএনপি ও জামায়াতের  মতো জঙ্গিবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা আসলে ক্ষতি করছে দেশের এবং খেটে খাওয়া মানুষের।