‘এসডোর’ গবেষণার তথ্য

টুথপেস্ট-হ্যান্ডওয়াশে ‘প্যারাবেন’, ঝুঁকি বাড়ছে ক্যানসারের

দেশে উৎপাদিত টুথপেস্ট ও হ্যান্ডওয়াশে বিপজ্জনক মাত্রায় প্যারাবেন পাওয়া গেছে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে দেশে প্রাপ্ত বিদেশি পণ্যে ক্ষতিকর এই রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (এসডো)-এর গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। তাই ক্ষতিকর রাসায়নিক প্যারাবেনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এসডো নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি টুথপেস্ট ও হ্যান্ডওয়াশে প্যারাবেনের উপস্থিতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষণার এ তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণায় সহযোগিতা করে দক্ষিণ কোরিয়ার ওনজিন ইনস্টিটিউট ফর অকুপেশনাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ।

গবেষণায় দেখা গেছে, টুথপেস্ট এবং হ্যান্ডওয়াশের সব নমুনাতেই নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রার রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নমুনাগুলোতে ফ্লোরাইড (শুধু টুথপেস্টে) এবং সোডিয়াম ডাইক্লোরাইডের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। আরো ভয়াবহ তথ্য হলো, প্রাপ্তবয়স্কদের পারসোনাল কেয়ার প্রোডাক্টে ২২টি নমুনার মধ্যে পাঁচটি পণ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায় প্যারাবেনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এ গবেষণায় সাতটি অন্যান্য দেশের পণ্যের নমুনাও বিশ্লেষণ করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে যে, বাংলাদেশি পণ্যগুলোতেই সবচেয়ে বেশি মাত্রায় প্যারাবেন ব্যবহার করা হয়

গবেষণায় মানব স্বাস্থ্যের ওপর এসব রাসায়নিক পদার্থের সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাবের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন প্যারাবেনের কারণে হরমোন নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত, প্রজনন সমস্যা, এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ফ্লোরাইডের অতিরিক্ত ব্যবহার হাড়ের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং দাঁতের এনামেল গঠনে সমস্যা তৈরি করে। তাছাড়া অতিরিক্ত সোডিয়াম ডাইক্লোরাইড ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরাগ, স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে।  

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্যারাবেন সাধারণত প্রিজারভেটিভ হিসেবে অধিক কার্যকর এবং সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে পারসোনাল কেয়ার প্রোডাক্টে এটি ব্যবহার করা হয়। তবে এই ধরনের রাসায়নিক পদার্থ আমাদের হরমোন নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এন্ড্রোকাইন সিস্টেমের কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। এ কারণেই বেশ কয়েকটি দেশ তাদের এ ধরনের পণ্যগুলোতে প্যারাবেনের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

গবেষণা পরিচালনার জন্য ঢাকার বিভিন্ন স্থানীয় দোকান থেকে টুথপেস্ট এবং হ্যান্ডওয়াশের ৩০টি নমুনা সংগ্রহ করার পর ল্যাব পরীক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার ওনজিন ইনস্টিটিউট ফর অকুপেশনাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথে (ডব্লিউআইওইএইচ) পাঠানো হয়। সেখানকার ল্যাবে পরীক্ষানিরীক্ষা করে ঐ ফলাফল পাওয়া যায়।

এসডোর চেয়ারপারসন সাবেক সচিব সৈয়দ মারগুব মোর্শেদ দৈনন্দিন ব্যবহূত ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যতে প্যারাবেনের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই রাসায়নিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবুল হাশেম বলেছেন, আমাদের দৈনন্দিন পণ্যে এতো উচ্চমাত্রায় এই বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার দেখে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। এগুলো নীরবে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে যাচ্ছে এবং আমাদের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। 

এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা পারসোনাল কেয়ার পণ্যে প্যারাবেনের ব্যবহার সীমিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।