‘দরবেশ বাবা’ পরিচয়ে নারী চিকিৎসকের সঙ্গে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১৯

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ‘দরবেশ বাবা’ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে প্রতারক চক্রের প্রধানসহ ১৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ‘দরবেশ’ পরিচয়ে এক নারী চিকিৎসকের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা প্রতারণার তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডি এ চক্রটিকে শনাক্ত করে।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মাগুরা থেকে প্রতারক চক্রের প্রধান আশিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী মিয়া।

সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রলুব্ধ করে প্রতারক চক্র। সেই বিজ্ঞাপনে লটারি পাইয়ে দেওয়া, ভাগ্যবদল, পাওনা টাকা আদায়, মামলায় জেতানো, পারিবারিক সমস্যা সমাধানের কথা বলা হতো। আধ্যাত্মিক ও তান্ত্রিক ক্ষমতা বলে বিপদগ্রস্ত মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারে তারা। এরপর বিজ্ঞাপনে থাকা মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে শুরু হয় পকেট কাটা।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘দরবেশ বাবা’ পরিচয়দানকারী চক্রটি প্রতারণা করতে দুটি কৌশল নিতেন। তারা দৈবচয়নের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত অথবা অর্থ সম্পদশালী ব্যক্তিদের দারোয়ান বা গাড়িচালকদের সঙ্গে সম্পর্ক করতেন। পরে ওই চালক ও দারোয়ানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিবারের গোপন তথ্য সংগ্রহ করতেন। তাদের কাছ থেকে ‘টার্গেট’ পরিবারের নানা সমস্যা কৌশলে জেনে বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রীর নম্বর সংগ্রহ করতেন।

এরপর শুরু করতেন প্রতারণা। স্ত্রীর কাছে স্বামীর বদনাম এবং স্বামীর কাছে স্ত্রীর বদনাম করে ঝামেলা তৈরি করতেন। তখন তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হতো। এরপর ‘দরবেশ’ পরিচয়ে চক্রের আরেক সদস্য কল করে সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। এভাবেই চক্রটি পারিবারিক সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে এক নারী ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, জানান সিআইডি প্রধান।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা সিআইডিকে জানিয়েছে, ২০২০-২১ সাল থেকে তারা এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। প্রথম দিকে তারা বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিতেন। পরে তারা পত্রিকা ও বিভিন্ন চ্যানেলের পাশাপাশি ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে থাকেন। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের নামে ভয়ভীতি ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিতেন তারা।