মিয়ানমারে সংঘাত

এক সপ্তাহ পর স্বাভাবিক টেকনাফ সীমান্ত

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরকান আর্মির (এএ) মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। একপর্যায়ে শাহপরীর দ্বীপের ওপারে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে এপারেও সপ্তাহজুড়ে ছিল আতঙ্ক।

তবে সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো গোলার শব্দ শোনা যায়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটের বাসিন্দা সালামত উল্লাহ বলেন, উখিয়াসহ টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে মাসব্যাপী মর্টারশেল ও গুলির শব্দে মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছিল। পরবর্তীতে রাখাইন রাজ্যের মংডুর দখল নিয়ে জান্তা বাহিনী ও আরকান আর্মির মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক সংঘর্ষ। এ কারণে শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দারা নতুন করে ভয়ে ও আতঙ্কে পড়ে গিয়েছিল। তবে গত রাত থেকে এ পযর্ন্ত কোনো গোলার শব্দ শোনা যায়নি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা যাচ্ছে।

2

স্থানীয় জেলে রশিদ আহমদ বলেন, গোলাগুলির শব্দ শোনা না গেলেও ভয়ে সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছি না। মাছ ধরতে মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন সাগরে যেতে হয়। সে কারণে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে সাগরে যেতে হবে।

এদিকে, নিরাপত্তার কারণে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে পর্যটকসহ স্থানীয়দের চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিজিবি। নাফ নদীতে টহল জোরদার করেছে বিজিবি-কোস্ট গার্ড। স্থলভাগেও পুলিশের টহল বেড়েছে। কাজ করছে চারটি বিশেষ দল। মিয়ানমার থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

3

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, স্থানীদের মাধ্যমে জেনেছি গতকাল রাত থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত কোনো বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়নি। এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। মিয়ানমারের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে বসবাসরত মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।