চলতি মাসেই বেনাপোল-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন: রেলমন্ত্রী

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, দেশে এই প্রথমবারের মতো জেলা-উপজেলা শহরের বাইরে বন্দরনগরী বেনাপোল থেকে আন্তঃনগর ট্রেন চালু হতে যাচ্ছে। জুলাই মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেনাপোল-ঢাকা প্রায় বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিসের উদ্বোধন করবেন।

বুধবার বিকেলে তিনি বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা জানান।

রেলমন্ত্রী বলেন, ট্রেনের নাম এখনো ঠিক করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে তিনটি নামের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে বেনাপোল এক্সপ্রেস, বন্দর এক্সপ্রেস ও ইছামতী এক্সপ্রেস। প্রধানমন্ত্রী এর মধ্যে একটি নাম নির্বাচন করবেন। সাড়ে ৭ ঘণ্টায় ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে। বর্তমানে যশোর থেকে ঢাকার মধ্যে যে ট্রেন সার্ভিস চালু রয়েছে সেটি ১৪টি স্থানে যাত্রাবিরতি করে। এতে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

আরও পড়ুন: গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চাইল ফেসবুক

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাঈদুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, রেল সার্ভিসটি চালুর ব্যাপারে অফিশিয়ালি এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে এ মাসে উদ্বোধন হতে পারে ধরে সবরকমের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে একদম নতুন আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিসের প্রারম্ভিক স্টেশন ধরে ওয়াটারিং পদ্ধতি স্থাপনের কাজ চলছে। এই স্টেশনে একটি ভিআইপি এসি এবং নন এসির জন্য পৃথক একটি অপেক্ষমান কক্ষ নির্মাণ করা হবে। বিদ্যমান রেললাইনেই এই ট্রেন চলতে পারবে। তবে এখনও পর্যন্ত হাতে লেখা টিকিটই এখান থেকে বিক্রি করা হয়। প্রায় সাড়ে আটশ আসনের বেশিরভাগ টিকেট হাতে লিখে ইস্যু করা সম্ভব না। এজন্য ট্রেনটি চালুর আগেই কম্পিউটার প্রিন্ট টিকেট চালু করা দরকার হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বেনাপোল-ঢাকা ট্রেনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এই ট্রেনের আসন হবে আধুনিক। থাকবে বিমানের মতো বায়ো-টয়লেট সুবিধা। প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এর ফলে ভারত থেকে আসা যাত্রীরা ট্রেনটি ধরে ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে যাবার সুবিধা পাবেন। বেনাপোল থেকে ট্রেনটি যশোর রেলওয়ে জংশনে পৌঁছে ১৫ মিনিটের বিরতি নেবে। এ সময় যাত্রী ওঠানো ও রেলের ইঞ্জিন ঢাকামুখি করা হবে। একটানা চলে ট্রেনটি ঈশ্বরদী জংশনে পৌঁছে ট্রেনের চালকসহ অপারেশনাল কর্মী বদল করবে। এজন্য ব্যয় হবে আরও ১৫ মিনিট। এভাবে সাড়ে ৭ ঘণ্টায় ট্রেনটি ঢাকার বিমানবন্দর হয়ে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছাবে। এই ট্রেনই আবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে সকাল ৮টা নাগাদ বেনাপোল পৌঁছাবে। এর ফলে ভারতগামী যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বেনাপোলে ইমিগ্রেশন কাজ সারতে পারবেন। বেনাপোল থেকে ঢাকা পর্যন্ত এ ট্রেনের টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে শোভন চেয়ার ৫শ টাকা, এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) চেয়ার এক হাজার ও এসি কেবিন এক হাজার ২শ’ টাকা। এর সঙ্গে বিরতিহীন সুবিধার জন্য ১০ শতাংশ চার্জ যোগ করতে হবে।

বুধবার বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকারী মো. শামসুজ্জামান মোবাইল ফোনে ইত্তেফাককে বলেন, জেলা ও উপজেলা শহরের বাইরে থেকে এটাই হবে প্রথম কোনো ট্রেন- যেটি আন্তঃনগর সার্ভিস।

এদিন বিকেলে বেনাপোল রেলওয়ে পরিদর্শনে এসে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, বেনাপোল স্টেশনে তিনি প্রথম আসলেন। এখানকার সাথে যেহেতু কলকাতার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, এজন্য এই স্টেশনটি আন্তর্জাতিকমানের করে গড়ে তোলা হবে। এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বৃটিশ আমলের রেলপথ তৈরির পর কোনো সরকারই সেভাবে এর উন্নয়নে নজর দেয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর রেলওয়ের উন্নয়নে নজর দেয়। এজন্য রেলওয়ের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে রেলের উন্নয়ন ঘটানো হবে। আগামীতে রেলই হবে চলাচলের প্রধান বাহন।

ইত্তেফাক/এমআরএম