মাতৃভাষা দিবসে স্বাবলম্বী হলো ২১ অসহায় নারী 

এ বছরের মাতৃভাষা দিবসে এক ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করেছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ২১ জন অসহায় নারীকে স্বাবলম্বী প্রকল্পের আওতায় সেলাইমেশিন দিয়েছে এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি।

এদিন ডামুড্যা শরীয়তপুর জেলায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক জনাব কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, আমাদের সকল কাজ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উদ্দেশ্যে - জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে দেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন।  আর তাই মাস্তুলের মূল লক্ষ্য একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা। এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে আজকের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে আমাদের এই ভিন্নধর্মী চেষ্টা যাতে ভবিষ্যৎ মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশের জিডিপিতে ভূমিকা রাখতে পারে। 

এসময় উত্তর ডামুড্যা, শরীয়তপুরে সুবিধাভোগী আফরিন জানান, তার তিন সদস্যের পরিবার মা সহ এক ভাই, ও বোন। জন্মের তিন বছর পর তার বাবা তাদের কে ফেলে আরেক টা বিয়ে করে নতুন সংসার করে।তার জীবনে বাবা কেমন জিনিস কোনো দিন তার স্বাদ পায়নি। অনেক কষ্টে নানার বাড়িতে থেকে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছে। আফরিন এখন ৮ম শ্রেণী পাশ করেছে, সেলাই মেশিনের কাজ শিখছে যাতে সে তার পড়াশোনার খরচ নিজে চালাতে পারে। কিন্তু প্রয়োজন সেলাই মেশিনের যা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য তার মায়ের নেই। মাস্তুল ফাউন্ডেশন কে সেলাই মেশিন উপহার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানায় আফরিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি  হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মাওলানা মো: সাইফুল ইসলাম, ইমাম ও খতিব, মসজিদ-উত-তাকওয়া। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মমিনুল হক মিন্টু সিকদার, চেয়ারম্যান, দারুল আমান, ডামু্ড্যা, শরীয়তপুর,। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব আল আমিন সিকদার, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার, মাস্তুল ফাউন্ডেশন,  এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর হেড অব অপারেশন কাজী রায়হান রহমান সহ অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ। 

মাস্তুল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান। মাস্তুলের প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে দাফন-কাফন সেবা প্রজেক্ট, যার মাধ্যমে করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩০০০ এর অধিক লাশ দাফন হয়েছে। মাস্তুলের রয়েছে নিজস্ব স্কুল, মাদ্রাসা এবং শেল্টারহোম যেখানে আবাসিক/অনাবাসিক মিলে শতাধিক পিতামাতাহীন/ অনাথ/ এতিম শিক্ষার্থী রয়েছে । এর বাহিরে কয়েক জেলায় প্রজেক্ট স্কুলগুলোতে হাজারের অধিক সুবিধা-বঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সকল শিক্ষার উপকরণ দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পুষ্টিকর খাবার, শিশু অধিকার, মৌলিক চাহিদা নিশ্চয়তা করা হচ্ছে। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের রয়েছে সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যার মাধ্যমে সুবিধা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করে তোলা হচ্ছে। এর বাহিরে যাকাত স্বাবলম্বী প্রজেক্টের মাধ্যমে ১০০০ জনের বেশি মানুষকে স্বাবলম্বী করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে বৃদ্ধ বাবা-মা দের জন্য মাস্তুল বৃদ্ধাশ্রম এবং মাস্তুল মেহমানখানা, যেখান থেকে শতাধিক অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের একবেলা পেট পুড়ে খাওয়ার ব্যবস্থা হয়।