দিনাজপুরের ফুলবাড়িসহ পাঁচ উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩৪টিতে নেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এতে প্রত্যন্ত এলাকার বৃহৎ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী চিকিৎসকের সেবা না পেয়ে হাতুড়ে চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি শহরে গিয়ে চিকিৎসকদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ নিতে গুনছেন অতিরিক্ত অর্থ।
দিনাজপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ফুলবাড়ি উপজেলায় ৫টি, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৬টি, চিরিরবন্দর উপজেলায় ১০টি, খানসামা উপজেলায় ৪টি, এবং বিরল উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। ওই পাঁচটি উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিমাসে অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে আসছেন।
শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী বিপ্লব বলেন, ইউনিয়নের বেশির ভাগ লোক বিশেষ করে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারছেন না। তারা বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের ওষুধ থেকে।
আরও পড়ুন: ভাঙ্গায় নতুন জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়
ফুলবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাসে গড়ে ১২ থেকে ১৪ হাজার রোগী স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন। আন্তঃবিভাগেও মাসে গড়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। রোগীদের অনেকেই অপচিকিৎসার শিকার হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। উপজেলা পর্যায়ে নতুন আসা চিকিৎসকদের প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিপরীতে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় ওইসব চিকিৎসককে দিয়ে এখানে সেবা দিতে হয়।
দিনাজপুর সিভিল সার্জন মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, উল্লেখিত পাঁচ উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নে এখনও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। বিদ্যমান ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে চিকিৎসা কর্মকর্তা পদায়ন করা হলেও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত থেকে সেখানেই চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
ইত্তেফাক/অনি