সৈকতে ৮টি মা কাছিম ৮৯৮টি ডিম ছেড়ে সাগরে ফিরল

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের সমুদ্র সৈকতে ৮টি মা কাছিম ৮৯৮ টি ডিম ছেড়ে সাগরে ফিরল। ডিম ছাড়তে আসা কাছিমগুলো অলিভ রিডলে প্রজাতির।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উখিয়া-টেকনাফের সমুদ্র সৈকতে এলাকা থেকে এগুলো সংগ্রহ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোডেক নেচার এন্ড লাইফ প্রকল্পের এনআরএম ম্যানেজার অসীম বড়ুয়া। 

তিনি বলেন, বুধবার ভোরে টেকনাফের উত্তর শিলখালীতে ৪টি কাছিম ৪৫৫টি ডিম, উখিয়ার মাদারবুনিয়াতে ২টি কাছিম ২২১ টি ডিম, ছেপটখালিতে ২টি কাছিম ২২২টি ডিম সৈকতে ছাড়েন। পরে কাছিমগুলো সৈকত থেকে সাগরে ফিরে যান। পরে সৈকত থেকে সব মিলিয়ে ৮টি কাছিম থেকে ৮৯৮টি ডিম সংগ্রহ করা হয়। 

ttt

তিনি আরও বলেন, ইউএসআইডির আর্থিক সহযোগিতায় কোডেক কর্তৃক বাস্তবায়িত নেচার এন্ড লাইফ প্রকল্পের উদ্যোগে বিপন্ন প্রজাতির কাছিম সংরক্ষণে করার লক্ষ্য উখিয়া-টেকনাফের সমুদ্র উপকূলে ৫টি কাছিমের হ্যাচারি স্থাপন করা হয়েছে। সৈকত যখন কাছিমগুলো ডিম ছাড়বে তখন সেখান থেকে ডিম গুলো সংগ্রহ করে হ্যাচারিতে নিয়ে আসা হয়। পরে বাচ্চা ফোটানোর পর সাগরে অবমুক্ত করা হয়। 

এর আগেও উল্লেখিত এলাকার বিভিন্ন স্পট থেকে প্রকল্প থেকে নিয়োজিত ৯ জন হ্যাচারি পাহারাদার  মোট ৬৪টি কাছিম উদ্ধার করে নিরাপদে সমুদ্রে ছেড়ে দেয় এবং বাসাসহ মোট ৭৩১৩টি ডিম সংগ্রহ করে ৫টি হ্যাচারিতে বাচ্চা ফুটানোর জন্য সংরক্ষণ করা হয়। 

অপরদিকে ১ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া দ্বীপ, বাহারছড়া, ইনানী সমুদ্র  সৈকতে ৫৩টি অলিভ রিডলে প্রজাতির কাছিমের মৃতদেহ ভেসে আসে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মা কাছিমগুলো সৈকতে ডিম ছাড়তে যখন আসেন তখন গভীর সমুদ্রে টলিং জালে আটকা পড়ে অথবা সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের আঘাতে এসব মা কাছিম মারা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন।

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিওআরআই) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, মা কাছিমের যখন ডিম ছাড়ার সময় হয় তখন তারা সাগর থেকে সৈকতে ডিম ছাড়তে চলে আসেন। তখন হয়তো জেলেদের জালে আটকা পড়ে সেগুলো মারা যেতে পারে বলে তিনি জানান।