যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দরকার পূর্ণাঙ্গ আইন

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইনের সংশোধন ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজন। তারা বলেন, আইনে পরিপূর্ণভাবে প্রতিটি বিষয় সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে। অপরাধের সংজ্ঞা, অপরাধের গুরুত্ব বর্ণনা করতে হবে। তদন্ত প্রক্রিয়া কত দিনে, কী প্রক্রিয়ায় করা হবে ও তদন্ত প্রতিবেদন কত দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে তা সুনির্দিষ্ট করাসহ অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে শাস্তি নির্ধারণ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রে আয়োজিত ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রয়োজনীয়তা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক  আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তারা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আসকের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সাল। উপস্থিত ছিলেন মহিলা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সমন্বয় ও সচেতনতা) নার্গিস সুলতানা জেবা, ব্র্যাকের সোশ্যাল কমপ্লাায়েন্সের পরিচালক ব্যারিস্টার জেনেফা জব্বার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আসকের অগ্নি প্রকল্পের সমন্বয়কারী আসমা খানম রুবা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৯৪ ধারায় যৌন হয়রানির কথা উল্লেখ নেই এবং শাস্তি কেবল তিন মাস। ৩৫৪ ধারায় নারীর শালীনতা নষ্টের কথা উল্লেখ থাকলেও এই শব্দের কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশে ৭৫ ও ৭৬ ধারায় যৌন হয়রানির কথা উল্লেখ থাকলেও শাস্তি যথাক্রমে তিন মাস এবং জরিমানা ৫০০ ও ২ হাজার টাকা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এ অভিযুক্তের শাস্তির পরিধি বাড়লেও নারীর অঙ্গ স্পর্শ করার কথা বলা হয়েছে যা সীমাবদ্ধ। বাংলাদেশ শ্রম আইনে ‘মহিলা’ শব্দের ব্যবহার রয়েছে, যা লিঙ্গ নিরপেক্ষ নয়। এছাড়া ৭ আগস্ট ২০০৮ সালের উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় শুধু কর্মস্থল এবং শিক্ষাঙ্গনের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারি সব কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন না করায় ২০২১ সালের ২১ অক্টোবর আইন সালিশ কেন্দ্র হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে। এখন পর্যন্ত কোনো আইন প্রণীত হয়নি, যার কারণে আইন ও সালিশ কেন্দ্র ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্বাগত বক্তব্যে ফারুখ ফয়সল বলেন, এই সভার মূল উদ্দেশ্য আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখা। সভায় আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশসমূহ নিয়ে এ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি করা হবে।

ব্যারিস্টার জেনেফা জব্বার বলেন, সবার আলোচনার মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে পদক্ষেপ গ্রহণে ভূমিকা রাখতে হবে। আলোচনায় যে সুপারিশ  এসেছে তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে অ্যাডভোকেসি করা সহজ হবে।

নার্গিস সুলতানা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি আছে, কিন্তু তা কার্যকর নয় এটাই সমস্যা। উপজেলা পর্যায়ে যে কমিটিগুলো আছে, সেখানে তেমন অভিযোগ পড়ে না। অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, বিশেষ আইন বিশেষভাবে কাজ করে, কত দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন হবে, সেটা নির্দিষ্ট করাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিধানসমূহ সুনির্দিষ্ট করা থাকলে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত হবে। বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কমিটি আছে, তবে সেগুলো সক্রিয় না। চাকরি হারানোর ভয়ে সাহস করে কর্মীরা হয়রানির কথা সামনে বলেন না। নারীরা সামাজিক প্রতিকূলতা, চাকরি হারানোর শঙ্কা, চারিত্রিক অসম্মান হওয়ার ভয়সহ নানা কারণে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে মনোবল পান না।