রাজধানীর বেসরকারি একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার প্রকৌশলী মিনহাজ উদ্দিন। প্রতিদিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবারও সারাদিন ছিলেন কর্মস্থলে। প্রতিদিন কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে বাসায় ফিরলেও গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত খোঁজ মিলছিলো না তার।
কাওরান বাজারের কর্মস্থল থেকে গতকাল সন্ধ্যায় বের হন মিনহাজ। অনেক রাত পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যান পরিবারের সদস্যরা। কোনোভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। পরে এক বন্ধুর কাছ থেকে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন মিনহাজ।
আজ শুক্রবার সকালে স্বজনেরা মিনহাজের পুড়ে যাওয়া লাশ পান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরে। দেখে চেনাই যাচ্ছিল না, স্বজনেরা হাতঘড়ি দেখে তার লাশ শনাক্ত করেন।
মিনহাজ ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত ছিলেন। ব্যাংক কর্মকর্তা বড় ভাই আমিনুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বাসাবো এলাকায় থাকতেন। পড়াশুনা শেষ করে একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে বছরখানেক ধরে চাকরি করছিলেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী।
গত রাত ১২টার পর মিনহাজের সঙ্গে খেতে যাওয়া বন্ধু আমিন ফোন করে জানান, তারা একসঙ্গে বিরিয়ানি খেতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেইলি রোডের সেই রেস্তোরাঁয় আগুন লেগেছে। তিনি দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়ে বেরিয়ে এলেও মিনহাজ ভেতরে আটকা পড়েছেন।
আজ লাশঘরের সামনে হৃদয়বিদারক পরিবেশ দেখা গেছে। মিনহাজের বড় ভাই আমিনুল ইসলাম ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিলেন। মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছিল না। স্বজনেরা তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তারাও কান্নায় ভেঙে পড়েন।
দোতলা থেকে লাফ দিয়ে আহত চিকিৎসাধীন আমিন বলেন, অনেকবার চেষ্টা করে লাফ দিতে পারিনি। কিন্তু পেছনে অনেকের বাঁচার আকুতি ও পুড়তে থাকা দেখে বাঁচার চিন্তায় লাফ দেই। নইলে আমিও হয়তো পুড়ে কয়লা হতাম মিনহাজ ভাইয়ের মতো। নিচে লাফ দেওয়ার পর আমার মনে হচ্ছিল কোমর যেন ভেঙে গেছে। দাঁড়াতে পারছিলাম না। কোনো রকমে হামাগুড়ি দিয়ে মূল সড়কে আসি। ফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাই সৌমিক আহমেদ অরণ্যকে ঘটনা খুলে বলি। এরপর ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তায় আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।