এই লাল গাড়িটা আমার ভালো লেগেছে, বাবা, আমাকে এটা কিনে দাও। বাবা টুকুকে লাল গাড়িটি কিনে দিলেন। টুকু মহাখুশি। গাড়িটা নিয়ে সে রাতদিন খেলা করে আর খেলা করে। এভাবেই লাল গাড়িটা টুকুর অনেক প্রিয় হয়ে গেল। সারাক্ষণই কাছে কাছে রাখে, একদমই হাতছাড়া করে না। এমনকি ঘুমোতে গেলেও না।
একদিন টুকু বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়াতে গেল চিড়িয়াখানায়, সেখানে কতরকমের কত কি দেখল। হলুদ ডোরাকাটা বাঘ দেখল, কুচকুচে কালো লোমওয়ালা ভালুক দেখল, সোনালি রঙের কেশরওয়ালা সিংহ দেখল, ধূসর রঙের বানর দেখল আর দেখল কিচিরমিচির ডাকতে থাকা নানারকমের পাখি। হলুদ পাখি, সবুজ পাখি, নীল পাখি, সাদা পাখি, খয়েরি পাখি। এসব দেখতে দেখতে টুকু ভুলেই গিয়েছিল তার লাল গাড়ির কথা। হঠাত্ বাসায় ফেরার পথে মনে পড়ল। টুকু কাঁদতে লাগল আর বলতে লাগল, মা, আমার লাল গাড়ি? বাবা আমার লাল গাড়ি? বাবা বললেন, টুকু, তুমি মনে হয় ওটা বাসায় রেখে এসেছ। টুকু ভাবে, কী করে সে এমন একটা ভুল করল। মা টুকুকে আদর করে দিলেন। বললেন, মন খারাপ কোরো না, আমরা একটু পরেই বাসায় পৌঁছে যাব।
টুকু ঘরে ঢুকেই তার লাল গাড়িটি খুঁজতে শুরু করল। কোথায় রেখেছিল? বিছানার ওপরে কি? না নেই, শোকেসের ভেতরে? না নেই। আলমারিতে? সেখানেও নেই। কোথায় টুকুর লাল গাড়ি কোথায়? বাবা-মা’র ঘরে, বসার ঘরে, রান্নাঘরে, খাবার ঘরে, কোথাও নেই টুকুর লাল গাড়ি। বারান্দায়? সেখানেও নেই। টুকু কাঁদতে শুরু করল। বাবা বললেন, টুকু আমি তোমাকে আরেকটি নতুন লাল গাড়ি কিনে দেব। টুকু বলল, বাবা, আমার ওই গাড়িটাই চাই। আরো অনেক খোঁজাখুঁজি হলো টুকুর লাল গাড়ি। কোথায়, টুকুর লাল গাড়ি কোথায়? যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে টুকুর লাল গাড়ি। শেষে বাবা টুকুকে আরেকটি নতুন লাল গাড়ি কিনে দিলেন।
টুকু আর কী করে, নতুন গাড়িটা নিয়েই খেলে। খেলতে খেলতে একসময় নতুন গাড়িটাও টুকুর অনেক প্রিয় হয়ে গেল, তবু সে পুরনো গাড়িটির কথা কখনোই ভুলে গেল না। কেন না পুরোনো গাড়িটি হারিয়ে ছিল বলেই সে বুঝতে পেরেছে প্রিয় জিনিসকে সবসময় আগলে রাখতে হয়।