জামালপুর সদরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে মায়া আক্তার নিশি (১৯) নামে এক গৃহবধূকে গরম পানি ঢেলে ঝলসে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আল আমিনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৯ ফ্রেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে দশটার দিকে মেলান্দহ উপজেলার নাগেরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার রাতে গৃহবধূকে মারধর শেষে মুখ বেঁধে গরম পানি ছিটিয়ে শরীর ঝলসে দেয় স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় দুই জনকে আটক করেছে র্যাব। এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-১৪ এর সিপিসি ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক জুলফিকার আলী।
আটককৃতরা হলো দেবর সাহাব উদ্দিন (২৫) ও তার স্ত্রী লিয়া আক্তার (২৮)। ২ মার্চ মধ্যরাতে সরিষাবাড়ির ভাটারা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, জেলার মেলান্দহ উপজেলার নাগেরপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে নিশি আক্তারকে বিয়ে করেন। একই গ্রামের আশেক আলীর ছেলে আল আমিন। বিয়ের পর আল আমিনকে মোটরসাইকেল, পণ্য-সামগ্রীও দেওয়া হয়। বিয়ের কিছুদিন পর নিশি আক্তারের স্বামীর ভাই সাহাব উদ্দিন এবং ভাবি লিয়া আক্তারের পরামর্শে ৫ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। এ নিয়ে কয়েকদফা দেন-দরবারের একপর্যায়ে তিন-চার মাস আগে জামালপুর শহরের ভাড়াটে বাসায় অবস্থান নেয়। মঙ্গলবার রাতে গৃহবধূকে মারধর শেষে মুখ বেঁধে গরম পানি ছিটিয়ে শরীর ঝলসে দেয় স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি জানাজানি হবার ভয়ে গোপনে চিকিৎসা দিলেও নিশির অবস্থার অবনতির ফলে গোপনে শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে। অন্যদের মাধ্যমে খবর পেয়ে নিশি আক্তারের স্বজনরা ওই ক্লিনিকে যায়। নিশিকে ক্লিনিকে রেখেই স্বামী আল আমিন পালিয়ে যায়। শারীরিক অবস্থা দেখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ গৃহবধূকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরার্মশ দেন পরিবারের সদস্যদের।