ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির ১৬৯ ছাত্রীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অভিভাবককে পৃথক পৃথক চিঠি দিয়ে ভর্তি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী। একইসঙ্গে ভর্তি বাতিলের বিষয়টি চিঠি দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদকে অবহিত করা হয়েছে। ভর্তি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত প্রতিবেদন এফিডেভিট আকারে কাল বুধবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হবে।
চলতি বছর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণিতে বিধিবহির্ভূতভাবে ১৬৯ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছিলো। যাদের জন্মসাল ছিলো ২০১৫ ও ২০১৬ সাল। কিন্তু মাউশি প্রজ্ঞাপন দিয়ে বলেছিলো ২০১৭ সালে জন্মসনদ রয়েছে এমন শিক্ষার্থীরাই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। কিন্তু এই ১৬৯ শিক্ষার্থীর অভিভাবক ২০১৫ ও ২০১৬ সালের জন্মসনদ দিয়ে তাদের সন্তানদের ভর্তির জন্য আবেদন করেন। পরে তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৫ সালে সালে জন্মগ্রহনকারী ১০ জন এবং ২০১৬ সালে জন্মগ্রহনকারী ১৫৯ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হলো।
কোন শাখায় কতজনের ভর্তি বাতিল
ভিকারুননিসা স্কুলের চারটি শাখার মধ্যে নিউ বেইলী রোড প্রধান শাখায় বিধিবহির্ভূত ভর্তি হয়েছে ৭৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০১৫ সালে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থী ৫ জন। ২০১৬ সালে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭১ জন। এই ৭১ জনের মধ্যে ১৭ জন ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী। আজিমপুর শাখায় ২০১৫ সালে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ জন। ২০১৬ সালে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৩ জন। ধানমন্ডি শাখায় ২০১৫ সালে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা একজন। ২০১৬ সালে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ জন। বসুন্ধরা শাখায় ২০১৬ সালে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ২৭ জন। এদের সকলের ভর্তি বাতিল করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।
এ প্রসঙ্গে স্কুলের কৌসুলি অ্যাডভোকেট রাফিউল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘সকল ছাত্রীর অভিভাবককে চিঠি দিয়ে ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।’
রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজী মাইনুল হাসান বলেন, ‘বিধিবহির্ভূতভাবে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে স্কুল কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বুধবার হাইকোর্টকে জানানোর কথা। যে রিপোর্ট দাখিল করবে তার উপর শুনানি হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পূর্বের জন্মসনদ দিয়ে বিধি বহির্ভূতভাবে ভর্তি হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর বয়স কারো ৮-৯ বছর। আর ২০১৭ সালের জন্মসনদ দিয়ে যারা ভর্তি হয়েছে তাদের বয়স ৬ বছর। অতএব বিধিবহির্ভূতভাবে ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অভিভাবকদের এ ধরনের অপরাধ করা থেকে বিরত রাখবে।’
চলতি শিক্ষাবর্ষে ভিকারুননিসা স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিতে অনিয়ম হয়েছে এবং এই অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে মাউশির মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন দেন পারভীন আক্তার নামে একজন অভিভাবক। যার সন্তান প্রথম শ্রেণিতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ছিলো। ওই অভিভাবকের করা আবেদন নিষ্পত্তি না করায় হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।
রিটে বলা হয়, নামিদামি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তিতে অনিয়ম হলেও মাউশি কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বৈধভাবে যেসব শিক্ষার্থীর ভর্তি হওয়ার সুযোগ ছিলো তারা বঞ্চিত হয়েছেন।
এরপরই হাইকোর্ট পারভীন আক্তারের আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে মাউশির মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের ওই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া সকল শিক্ষার্থীর তথ্য চাওয়া হয়। ওই তথ্য পর্যালোচনা করে মাউশি জানতে পারে যে ভিকারুননিসায় ১৬৯ জন শিক্ষার্থী বিধিবহির্ভূতভাবে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন। এরপরই এসব শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের জন্য ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরীকে ২২ ফেব্রুয়ারি চিঠি দেন মাউশির মহাপরিচালক।