যুদ্ধের কারণে গাজায় স্থলপথে প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ মোকাবিলায় সমুদ্রপথে প্রয়োজনীয় মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। এতে নতুন করে গতিও পেয়েছে। যুদ্ধের পাঁচ মাসের বেশি সময়ের ভয়ানক পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ গাজায় আকাশপথে সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তবে প্যারাসুটের ত্রুটির কারণে শুক্রবার সর্বশেষ অপারেশনটি ছিল প্রাণঘাতী।
গাজা নগরীর আল-শিফা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান নার্স মোহাম্মদ আল শেখ বলেন, এই দুর্ঘটনায় উপকূলীয় আল-শাতি শরণার্থী শিবিরের উত্তরে পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর এএফপি’র।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ও তার ভাই এক ব্যাগ ময়দার আশায় সাহায্যের প্যারাসুট অনুসরণ করেছিলেন। প্যারাসুটটি না খুলে হঠাৎ করে রকেটের মতো নিচে একটি বাড়ির ওপর পড়ে যায়। জর্ডান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তারা এই প্রাণহানির দায় অস্বীকার করেছেন।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। কিছু প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তারা জানায়, এ দুর্ঘটনা ইউএস এয়ারড্রপের ফলাফল ছিল না। বেলজিয়াম, মিসর, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসেরও এয়ারড্রপ ছিল।
এদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন লার্নাকা’র সাইপ্রিয়ট বন্দরে এই রোববার একটি সামুদ্রিক করিডোর খুলতে পারার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে এ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় শুক্রবার একটি ‘পাইলট অপারেশন’ চালু করা হয়। এতে করে গাজার জনগণের কাছে প্রথমবারের মতো বিপূল পণ্যের চালান নিশ্চিত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের ভাষণে বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী সাহায্য আনার জন্য গাজার উপকূলে একটি ‘অস্থায়ী ঘাট’ তৈরি করবে। ইসরায়েলি নেতাদের সাহায্যের বিরুদ্ধে সস্তা দর কষাকষির ব্যপারে তার সতর্কতা প্রদানের পরদিন শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অবশ্যই আরও সাহায্যের অনুমতি দিতে হবে।
৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলি অবরোধের মধ্যে থাকা গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষের বিষয়ে জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করেছে। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বিমান বা সমুদ্র সরবরাহ অকার্যকরের উল্লেখ করে স্থলপথে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জোর আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, বাইডেন রমজানের আগে একটি নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির আশা প্রকাশ করেছেন।